জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান কর্তৃক গণমাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন নিয়ে দেওয়া মন্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাকসু। একই সঙ্গে তার দেওয়া ‘চাটুকারি বক্তব্য’অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মো. মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম একটি টেলিভিশন টকশোতে জাকসু নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি ব্যালটের মুড়িবই না থাকা, ব্যালটে নম্বর না থাকা এবং হাতে অমোচনীয় কালি না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন—যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সুস্পষ্ট মিথ্যাচার।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পাঁচ শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত থাকলেও কোথাও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং নির্বাচন চলাকালে একটি নির্দিষ্ট সংগঠনকে জেতাতে অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান নিজেই অপতৎপরতা, জোরপূর্বক ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন—যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং ক্যাম্পাসসহ সারাদেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত আকাঙ্ক্ষিত জাকসু নির্বাচন নিয়ে একজন শিক্ষকের এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামতকে অবমূল্যায়ন করে। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়া নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা একজন শিক্ষকের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ও অনভিপ্রেত।
জাকসু নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন, অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান অবিলম্বে তার মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। অন্যথায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে।