মহেশখালীর সোনাদিয়া, হামিদারদিয়া, বড়দিয়া, লালদিয়্যা ও ঘটিভাঙ্গা এলাকায় উপকূলীয় প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের স্থাপন এবং বিলাসবহুল কটেজ নির্মাণের উদ্দেশ্যে বনভূমি দখলের অপতৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ. এইচ. এম. হামিদূর রহমান আযাদ।
আজ রোববার এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, উপকূলীয় প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের স্থাপন এবং বিলাসবহুল কটেজ নির্মাণের উদ্দেশ্যে বনভূমি দখলের যে ব্যাপক তৎপরতা চলছে তা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই উপকূলীয় বনভূমি কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নয়, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের জীবিকার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দুঃখজনকভাবে, একটি প্রভাবশালী মহল পরিকল্পিতভাবে এই বনভূমি দখল করে প্রকৃতি ধ্বংসে লিপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমান সরকারি দলের মাননীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের পূর্বে বনভূমি রক্ষার প্রতিশ্রুতি প্রদান করলেও বাস্তবে তার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে তিনি জনসমক্ষে বন সংরক্ষণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, অন্যদিকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বনদখলকারী চক্রকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং পরিবেশের প্রতি চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইতোমধ্যে দখল কার্যক্রমের ফলে ব্যাপক হারে গাছপালা উজাড়, প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিলুপ্ত হয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক এই এমপি বলেন, আমি এই অবৈধ দখলদারিত্বের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে এ ধরনের দখল কার্যক্রম বন্ধ করা, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার এবং পুনরায় বনসৃজন কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।