বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির প্রভাব কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর’ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করবে একশনএইড বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। এলক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রোববার একশনএইড বাংলাদেশ-এর গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিতে সই করেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির এবং বিএসআরইএ-এর প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আল মাহমুদ। এসময় উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই কৌশলগত অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হলো - নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে শিল্পখাত ও তৃণমূলের মানুষের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব ও টেকসই করা।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ জলবায়ু অর্থায়ন, জ্বালানি সুবিচার এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল রূপান্তর নিয়ে নিবিড় গবেষণা পরিচালনা করবে। পাশাপাশি বিকেন্দ্রীভূত সৌর বিদ্যুৎ ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী সংলাপ ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের টেকসই জ্বালানি ও অর্থায়ন বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে উভয় প্রতিষ্ঠান নিবিড়ভাবে কাজ করবে।

এছাড়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী অনুযায়ী, বিএসআরইএ মূলত কারিগরি পরামর্শদাতা এবং অ্যাডভোকেসি পার্টনার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এই অংশীদারিত্বটি প্রাথমিকভাবে আগামী ৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, “জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির উপযোগিতা বাড়ানো এখন বৈশ্বিক ও জাতীয় অগ্রাধিকার। তবে এই রূপান্তর হতে হবে ‘ন্যায্য’, যেখানে নারী ও তরুণ সমাজসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বিএসআরইএ-এর কারিগরি দক্ষতা এবং আমাদের সামাজিক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা একত্রে বাংলাদেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনে সহায়ক হবে।”

বিএসআরইএ-এর প্রেসিডেন্ট মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একশনএইডের সাথে আমাদের এই জোট তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক নীতিনির্ধারণ এবং দেশের জ্বালানি খাতে টেকসই ও গুণগত পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, এই উদ্যোগটি ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর প্রভাব বিস্তার করবে। একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকারি জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও এই অংশীদারিত্ব বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে।

সামাজিক ও জলবায়ু সুবিচার এবং প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছে একশনএইড বাংলাদেশ। অন্যদিকে, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম বিএসআরইএ বর্তমানে ১৬৫টি সদস্য সংগঠন নিয়ে সবুজ জ্বালানি বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত শক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব অর্জনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।