নরসিংদীতে আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পকেই মূল ধাক্কা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান। তার মতে, পরবর্তী যে কয়েকটি কম্পন অনুভূত হচ্ছে, এসবই মূল ভূমিকম্পের স্বাভাবিক আফটারশক।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) টিবিএসকে তিনি বলেন, মূল ভূমিকম্পের প্রতিক্রিয়াতেই পরবর্তী কম্পনগুলো হচ্ছে। এগুলো আলাদা ভূমিকম্প নয়। এর আগে আজ সকাল ৬টা ১৪ মিনিটে একটি হালকা ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নরসিংদী। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) প্রাথমিক তথ্যে এ তথ্য জানা যায়।
গত ২১ নভেম্বর ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হন, আহত হন শতাধিক মানুষ। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ভবন, স্থাপনা ও অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়।
অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, ৫.৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পটি ছিল স্বতন্ত্র ঘটনা, অর্থাৎ এটি কোনো পূর্ববর্তী কম্পনের ফল নয়। দীর্ঘদিন ধরে ভূগর্ভস্থ একটি ফল্টলাইনে চাপ জমা হচ্ছিল। সেই সঞ্চিত শক্তি আচমকা মুক্ত হয়েই মূল ভূমিকম্প সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এখন যে ছোট ছোট কম্পনগুলো হচ্ছে, সেগুলো ভূগর্ভের গভীরে সংঘটিত ‘ডিপ আর্থকোয়েক’। সাধারণ অবস্থায় এই ধরনের কম্পন হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বড় ভূমিকম্পটি মাটির ভারসাম্য নষ্ট করে দিয়েছে, এক অংশ উপরে উঠেছে, আরেক অংশ নেমে গেছে। ফলে অঞ্চলটি নিজেকে পুনরায় ভারসাম্যে ফেরানোর চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, ভূমিকম্প যত প্রবল হয়, তার পরবর্তী সমন্বয় প্রক্রিয়া তত দীর্ঘ, কখনো কখনো এক বছর পর্যন্ত।
৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প মাঝারি শক্তির হলেও নরসিংদী এলাকায় মাটি অত্যন্ত নরম ও স্তরবিন্যাস পুরু হওয়ায় আফটারশকের সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন খুব নরম। তাই সমন্বয় প্রক্রিয়া এক মাসের বেশি সময় নিতে পারে। তবে এমনও হতে পারে, আর কোনো আফটারশক নাও আসতে পারে।অধ্যাপক জিল্লুরের ব্যাখ্যায়, মূল ভূমিকম্পটি ভূগর্ভে ৭-৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলাকায় বড় ধরনের ফাটল তৈরি করেছে। কয়েক সেন্টিমিটার ওপর-নিচে সরে গেছে মাটির স্তর। ফলে ওই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ চাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে।
এই কারণেই পরবর্তী সব কম্পন নরসিংদী কেন্দ্রিক এবং একই ফল্টলাইনের আশেপাশে সীমাবদ্ধ।
তিনি পরিষ্কার করে বলেন, যতক্ষণ কোনো কম্পন ৫.৭ মাত্রার চেয়ে বেশি না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত সবই আফটারশক।