চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২০ থেকে ৩০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আহত-নিহতরা
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা ক্রসিং এলাকার টাওয়ারের গোড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া একটি লেগুনার সঙ্গে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী ঈগল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুতগতির বাসটি ওভারটেক করতে গিয়ে লেগুনাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে লেগুনাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসে। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ রাত পৌনে ১০টার দিকে জানান, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত আটজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনা পরবর্তী অবস্থা
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম বলেন, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন। প্রাথমিকভাবে ২০ থেকে ২৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের অনেকেই লেগুনার যাত্রী বলে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর ঈগল পরিবহনের বাসচালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও লেগুনা সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণেই প্রায়ই এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে।