চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে থাকা র‍্যাব সদস্যদের ওপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামে এক র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিন র‍্যাব সদস্য।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‍্যাবের দাবি, হামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী অংশ নেন।

পুলিশের কাছে থাকা ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস (হাইয়েস) এলাকায় প্রবেশের পর লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন ব্যক্তি সেগুলো ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে তারা গাড়ি দুটির কাচ ভাঙচুর করেন। হামলার সময় ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যায়। ঘোষণায় এলাকার বিভিন্ন ফটক বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহত কয়েকজন র‍্যাব সদস্য একটি কক্ষে বসে আছেন। তাঁদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ বাঁধা এবং কক্ষের মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে আছে। পরে পুলিশ সদস্যরা আহত র‍্যাব সদস্যদের গাড়িতে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে ৪৩ জন র‍্যাব সদস্য অভিযান চালাতে যান। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিপুল সংখ্যক দুষ্কৃতকারী র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও জানান, হামলায় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজন র‍্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে এটির অবস্থান হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কয়েক দশক ধরে এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, খুনাখুনির ঘটনা ঘটে চলছে। সম্প্রতি এলাকায় দখল-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি হয়। এতে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।