সেনা সমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন (১/১১) সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পর এবার ফের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক রাজধানীর মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এরআগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আরও তথ্য উদঘাটনের জন্য দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে আনা হয়েছে। তাদের প্রথ্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় প্রতিটি মামলায় গভীর জিজ্ঞাসাবাদে সময়ের প্রয়োজন হয়। যে কারণে তদন্ত কর্মকর্তারা এই দুই জনকে পৃথক ভাবে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সূত্র জানায়, এর মধ্যে কিছু বিষয় তারা অকপটে স্বীকার করলেও ওয়ান ইলেভেন সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এখনো তাদের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তারা একেকজন অন্যদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন। যে কারণে প্রকৃত তথ্য যাচাই বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গতকাল মঙ্গলবার ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আবারও তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আসামির ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দেলোয়ার হত্যা মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের ৫০০-৭০০ নেতাকর্মী। এসময় শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

রিমান্ডে আছেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী: অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বর্তমানে ৬ দিনের রিমান্ডে আছেন। গত রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। মানবপাচার ও নথিপত্র জালিয়াতির মামলায় দ্বিতীয় দফায় তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে, গত ২৪ মার্চ রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসে নিজ বাসভবন থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে দেন আদালত। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমেদসহ ১০৩ জনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পল্টন মডেল থানায় এ মামলা করেন আফিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাভারে ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন। পরে তাকে গুরুতর অপরাধ ও দুর্নীতি দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৮ সালের ২ জুন তাকে লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করে ৮ জুন অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।