ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট সেবন করার পর লিভার যে ক্ষতির মুখে পড়ে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় তাকে ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ বা ডিআইএলআই (DILI) বলা হয়।

সাধারণত একটু জ্বর বা গা ব্যথায় আমরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই দোকান থেকে ওষুধ কিনে খেয়ে ফেলি।

কিন্তু নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়সীমা না মেনে এভাবে নিজের ইচ্ছেমতো ভুল ওষুধ বা অনিয়মিত মাত্রায় প্রেসক্রিপশনের ওষুধ খেলে লিভারের কর্মক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

এমনকি ইদানীং বাজারে পাওয়া যাওয়া বিভিন্ন ভেষজ সাপ্লিমেন্ট থেকেও ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

মূলত দুটি ভিন্ন উপায়ে ওষুধ লিভারের ক্ষতি করে থাকে:

১. ইনট্রিনজিক ডিআইএলআই: এটি সরাসরি ওষুধের মাত্রা বা ডোজের ওপর নির্ভর করে। চিকিৎসকের নির্দেশিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ওষুধ খাওয়া, ভুল ওষুধ বেছে নেওয়া বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে একটানা ওষুধ খেয়ে গেলে এই পদ্ধতিতে সরাসরি লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২. ইডিয়োসিনক্র্যাটিক ডিআইএলআই: এটি মূলত রোগীর জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যৌথ ফলাফলে ঘটে থাকে। চিকিৎসকের তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন মনগড়া সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ চালিয়ে গেলে রোগীর শরীরে এমন কিছু প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে লিভারকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দেয়।

ঝুঁকিপূর্ণ কিছু পরিচিত ওষুধ:

জ্বর ও ব্যথানাশক ওষুধ: সচরাচর ব্যবহৃত চেনা জ্বরের ওষুধ কিংবা নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (NSAID) ব্যথানাশক একটানা খেয়ে গেলে লিভারের কার্যক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়।

অ্যান্টিবায়োটিক: নাক, কান বা গলার সংক্রমণ এবং যক্ষ্মা বা শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ভারী অ্যান্টিবায়োটিকগুলো নিয়ম না মেনে খেলে লিভারে মারাত্মক বিষক্রিয়া তৈরি হতে পারে।

ক্যান্সারের ওষুধ: কেমোথেরাপি এবং ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো সরাসরি লিভারের ওপর চাপ ফেলে, তাই এগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়।