স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে। ফলে স্বাস্থ্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসানের ৭১ বিধিতে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় এ কথা বলেন তিনি। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য স্বাস্থ্যনীতির আলোকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সার্বজনীন স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। সে আলোকে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর ওপর অত্যধিক গুরুত্বারোপ করেছেন।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে কোনো উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। বিগত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অবকাঠামো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অনেক জায়গায় ভেঙে পড়েছে।
ফলে স্বাস্থ্য খাত স্থবির হয়ে পড়েছে। ফুলবাড়িয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ১৯৬৫ সালে নির্মিত একটি জীর্ণ স্থাপনা, এ স্থাপনাতে বিগত দেড় দশকে কোনো সংস্কার কার্যক্রম নেওয়া হয়নি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে বদ্ধপরিকর। আগামী অর্থবছরে ফুলবাড়িয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন শুরু করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
কামরুল হাসানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য অনেকগুলো সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের অভাব, সন্ধ্যার পরে ডাক্তারদের নিরাপত্তার অভাব, ডাক্তারদের বসার জায়গার অভাব, রোগীর সংকুলান হচ্ছে না, ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে হবে।
এরকম অনেকগুলো সমস্যার কথা উনি উল্লেখ করেছেন, যার প্রত্যেকটি বাস্তবতার নিরিখে একেবারে সত্য। এই সমস্যা শুধু ওইখানে নয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হাসপাতালের ব্যবস্থাপনার পরিসর বৃদ্ধি হওয়া দরকার। কিন্তু বিগত ১৭ বছর এদিকে কোনো মনোযোগ আকর্ষিত হয়নি। জনগণের চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে হাসপাতালের কোনো সম্প্রসারণ হয়নি। লজিস্টিকস বাড়ানো হয়নি, আসবাবপত্র বাড়ানো হয়নি। এই সমস্যাগুলো রয়েছে। আমাদের সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতিকল্পে কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় এ ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন।
তিনি বলেন, আগামী বাজেটের পর আমরা লজিস্টিকস বৃদ্ধি করার জন্য, ডাক্তারের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য, নার্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পরিসর বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছি। এই স্বাস্থ্য খাতে প্রধানমন্ত্রী আরও এক লাখ নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আমরা পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধান করব।