স্টাফ রিপোর্টার ও শেরপুর সংবাদদাতা
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদ মাওলানা রেজাউল করিম (রহ.)-এর জানাযা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদের জানাযায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. মোঃ ছামিউল হক ফারুকী। জানাযায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ময়মনসিংহ জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ আব্দুল করিম, শেরপুর জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান বাদল, জেলা মিডিয়া ও প্রচার সেক্রেটারি মোঃ গোলাম কিবরিয়া (ভিপি), জামালপুর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির নাজমুল হক সাঈদীসহ ১০ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।
জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা রেজাউল করিম ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন। তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন এবং জান্নাতের মেহমান হিসেবে স্থান দেন।
জানাযায় শেরপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
আমাদের শেরপুর সংবাদদাতা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) জাতীয় সংসদ নির্বাচনী এলাকার ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ সহিংসতা। বিএনপি প্রার্থীর উসকানিতে ও উপস্থিতিতে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন এবং শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম শাহাদাত বরণ করেন।
গত বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল–এর আয়োজনে স্টেডিয়াম মাঠে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত চেয়ার ছাড়াও সাধারণ জনগণের জন্য প্রায় এক হাজার চেয়ার রাখা হয়, যা দুপুর ২টার মধ্যেই বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকেরা দখল করে নেন।
আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটে ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান ও সাবেক সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান–এর নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী মাঠে প্রবেশ করলে চেয়ার না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ সময় জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান বাদল শান্তি বজায় রাখতে তার সমর্থকদের চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে থাকার আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সমর্থকেরা চেয়ার ছেড়ে দিলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা খালি চেয়ার নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর তা নিক্ষেপ শুরু করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংঘর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই স্থান ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে বিএনপির এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হামলার নির্দেশ প্রদান করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
জামায়াত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ নুরুজ্জামান বাদল ও তার নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় মাঠে অবরুদ্ধ থাকেন। যে পথ দিয়ে বের হওয়ার কথা ছিল, সেই পথেই বিএনপি প্রার্থী ও তার অনুসারীরা অবস্থান নেন। প্রশাসনের কার্যকর সহযোগিতা না পেয়ে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে।
জামায়াত প্রার্থী মাঠ ত্যাগের চেষ্টা করলে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী পুনরায় হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫০ জন জামায়াত নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম পরবর্তীতে শাহাদাত বরণ করেন।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে : শেরপুরে সহিংসতায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেইসঙ্গে সহিংসতায় প্রাণহানি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে থাকাকালে সরকার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামসহ সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রদর্শন এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে সংযম নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণহানির কোনো স্থান নেই।
শেরপুরে সংঘর্ষ ও হত্যাকা-ের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। একইসঙ্গে জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সব রাজনৈতিক দল, নেতা ও নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত সবার প্রতি শান্তি বজায় রাখা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক উপায়ে ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। শান্ত পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক আচরণের ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।