তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নতুন প্রজন্মের দক্ষ জনশক্তিকে ইউরোপীয় শ্রমবাজারে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে একটি বাস্তবসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য ‘রোডম্যাপ’ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এই প্রবাহ বাড়াতে এবং প্রবাসে নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ইউরোপীয় শ্রমবাজারে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি: মাস্টারপ্ল্যান (২০২৬-২০৩১) উপস্থাপন এবং প্রবাসীদের রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ইতালবাংলা সমন্বয় উন্নয়ন সমিতি এবং বাংলাদেশের প্রবাসী উন্নয়ন সমিতি যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে আমরা ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ঋণের বিশাল বোঝা উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছি।
তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও অর্থনীতিকে স্বনির্ভর করতে রেমিট্যান্স আয়ের পরিধি বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের প্রধান ক্ষেত্র মূলত দুটি: তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত ও রেমিট্যান্স। প্রতি বছর আমরা তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে প্রায় ৪০-৪২ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার আয় করি। কিন্তু আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে কেবল এই দুই খাতের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না।
এসময় তথ্যমন্ত্রী রপ্তানি পণ্যের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিতে প্রবাসে কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ রফতানি বাজারকে আরও সম্প্রসারণ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।
বৈদেশিক মুদ্রার বিকল্প বাজার হিসেবে দেশের পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যদি কুয়াকাটা বা কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো ও পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদেশি পর্যটকরা এখানে ঘুরতে আসবেন। এভাবেই পর্যটন আমাদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের একটি শক্তিশালী বিকল্প ক্ষেত্র হতে পারে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনতাত্ত্বিক লভ্যাংশের সুবর্ণ সময়ে অবস্থান করছে। আমাদের এই বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে কেবল শ্রমিক হিসেবে নয়, বরং উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে বিশ্ববাজারে পাঠাতে হবে।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের দেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে আমাদের কর্মীরা যাতে কর্মস্থল ত্যাগ করে ‘পালিয়ে যাওয়া’ বা নিয়মভঙ্গের মতো কাজ না করেন, সেদিকে নজর দিতে হবে। তাই দক্ষতা ও ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি তাদের নীতি-নৈতিকতা ও আচরণগত মোটিভেশন প্রদান করা জরুরি।’
তিনি এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সেমিনারে ইউরোপের বাজারে আগামী ৫ বছরে ১০ লাখ জনশক্তি রপ্তানির একটি মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ডাটাবেজ তৈরির পাশাপাশি নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন।
এছাড়া সেমিনারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার কার্যকর করা এবং জাতীয় সংসদে প্রবাসীদের জন্য সংরক্ষিত আসনেরও দাবি জানানো হয়।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিচালক প্রকৌশলী মো. সালাহ উদ্দিন এবং উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলী মর্তুজা বলেন, ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা করতে আমাদের কর্মীদের ভাষাগত ও কারিগরি দক্ষতায় সেরা হতে হবে। বিশেষ করে কর্মস্থলে টিকে থাকার মানসিকতা তৈরি করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিএনপির সর্ব ইউরোপিয়ান শাখার আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ ঝিন্টুর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করেন ইতালবাংলা সমন্বয় ও উন্নয়ন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মোহাম্মাদ তাইফুর রহমান ছোটন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউরোপের বিভিন্ন প্রবাসী সংগঠনের নেতারা।
উত্তরায় জামায়াতের রুকন শিক্ষাশিবিরে অধ্যাপক মুজিব
সরকারকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে হবে
সরকার গায়ের জোরে জনগণকে অপমান করে গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছে; কিন্তু এতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না বরং দেশের মানুষ যেকোন মূল্যে তাদের দেওয়া রায়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই ছাড়বে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি।
গত শুক্রবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে উত্তরা পশ্চিম অঞ্চল জামায়াতের রুকনদের দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও অঞ্চল পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলমের পরিচালনায় শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব। উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা ড. আহসান হাবীব ইমরোজ, জামাল উদ্দিন ও মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ প্রমূখ।
অধ্যাপক মুজিব বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করতে হবে। এর মধ্যেই রয়েছে মানুষের অর্থনৈতিক কল্যাণ ও মুক্তি। মানুষের চরিত্র ভালো করার জন্য সরকারকেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সবার আগে নিজের ঘর, গ্রাম ও সমাজ পরিবর্তনে নিতে হবে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল স্তরে জনগণের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারের ক্ষমতার দম্ভে কোন কিছুকেই পরওয়া করছে না বরং সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদ সহ স্থানীয় সরকার পরিষদের সকল ক্ষেত্রে দলীয় লোকদের বসিয়ে অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। তাই সরকারের এসব অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে জনগণকে আবারো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার আহবান জানান। অন্যথায় তাদের আগামী দিনের পথ চলা মোটেই ইতিবাচক হবে না।
তিনি বলেন, জামায়াত একটি আদর্শবাদী, গণতান্ত্রিক ও গণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। আমরা নিজেরা যেমন অন্যায় ও দুর্নীতি করবো না, ঠিক তেমনিভাবে কারো অন্যায় ও দুর্নীতি কোনভাবেই মেনে নেবো না। আমরা এমন এক শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা থাকবে। তিনি সে কাক্সিক্ষত শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যেকোন ত্যাগ স্বীকারে সকলকে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সরকার গণভোটের রায় অস্বীকার করে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা রীতিমত গণবিরোধীয় লিপ্ত হয়েছে। যা আগামী দিনে তাদের জন্যই বুমেরাং হবে-ইনশাআল্লাহ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার ক্ষমতার দম্ভে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে। কিন্তু তাদের মনে রাখা উচিত ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ি বন্দোবস্ত নয়। তাই তাদেরকে অবশ্যই ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।