জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ ছেড়েছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। গতকাল বুধবার তিনি পদত্যাগ করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তার পদত্যাগপত্র দেখেছে।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। সে বছরের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। সংস্থাটি গত বছরের শেষ দিকে তাকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়।

পুতুলের বিরুদ্ধে মূলত চীন ভ্রমণে আর্থিক অনিয়ম ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা বর্তমানে ডব্লিউএইচও তদন্ত করছে। তবে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন তিনি।

শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর ভোটে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন পুতুল। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। একই ধারাবাহিকতায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুতুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাকে প্রথম অবৈতনিক ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। এর পর থেকে পদত্যাগের আগপর্যন্ত অবৈতনিক ছুটিতেই ছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে চীন সফরকে কেন্দ্র করে আর্থিক প্রতারণা, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য প্রদান এবং বাংলাদেশে অবৈধভাবে একটি জমির প্লট অধিগ্রহণের অভিযোগ তুলেছে। গত ৩ জুলাই তার আইনজীবীদের পাঠানো এক চিঠিতে পুতুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি দাবি করেন, জমির প্লটটি তিনি ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় অধিগ্রহণ করেছিলেন।

ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে পুতুল লিখেছেন, আমি আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকতার সঙ্গে করে এসেছি।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘যেহেতু আপনি দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে আমাকে বাধা দিয়ে চলেছেন, তাই ডব্লিউএইচতে আপনার নেতৃত্বের ওপর আমার সব আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে গেছে। এছাড়া আপনার বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।