ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (আসন-৪) ও সংসদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিষয়ক কমিটির সদস‍্য সুমইয়া বোরোয়াহা বলেছেন, ইসলামের শ্বাসত আদর্শের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ বির্নিমানে ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি গতকাল রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ) ফ্রান্সে বাংলাদেশী কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার এর উদ‍্যোগে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান মেহমানের বক্তৃতায় এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামি সেন্টারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্তা কম‍্যুন এর মেয়র আজেদিন তাইবি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, এসডিআরএম ৯৩ এর সহ-প্রতিনিধি সোর এলোদি ব্লঁদেল, গির্জার মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার জন্য ডায়োসিস পর্যায়ের সেবা বিভাগ এর উইলহেম কোয়ান্দ্র। বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামি সেন্টারের কোষাধ্যক্ষ কামরুল হাসান ও কমিউনিটি ব‍্যক্তিত্ব জালাল আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, ফ্রান্স বাংলাদেশ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এফবিজেএ এর সমন্বয়ক ও দৈনিক নয়াদিগন্তের ফ্রান্স প্রতিনিধি মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন, বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামি সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শহিদুল ইসলাম ও এক্টিভিষ্ট খান খালেদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে রমযানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক আহমাদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস‍্য সুমইয়া বোরোয়াহা বলেন, ফ্রান্সের মুসলিম নাগরিকরা আমাদের জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অবদান আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়তে চাই যেখানে সম্মান, সংলাপ এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের একসময় গৌরবময় অধ্যায় ছিল, সেই সময় ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষায় শীর্ষে ছিল তারা। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে আদর্শীক শিক্ষা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে করে তারা সঠিকভাবে সচেতন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

বিশেষ অতিথি স্তা মেরীর মেয়র আজেদিন তাইবি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সিটি কর্পোরেশনের সহকারী মেয়র, প্যারিসের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামীজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ,কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। ইফতার মাহফিলটি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।