এইচ এম আকতার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগ সম্পাদক এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমরা ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেব না। নতুন করে কাউকে ফ্যাসিবাদি হতেও দিব না। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে এবং সংসদে ভূমিকা রাখবে জামায়াত।
গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আটটায় কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশী আমেরিকান এসোসিয়েশন (কোবা) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ইয়র্ক বাংলা'র সম্পাদক রশীদ আহমদের উপস্থাপনায় শুরুতে কুরআনে কারীম থেকে তেলাওয়াত সঙ্গীত শিল্পী সালাহ উদ্দিন রাসেল। নিউইয়র্কে কর্মরত প্রবাসি বাংলাদেশি সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি হলে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও বিভিন্ন ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
সভায় উপস্থিত স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকরা বাংলাদেশের রাজনীতি, জুলাই আন্দোলন, দেশের ভবিষ্যৎ এবং প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব প্রশ্নের সাবলীলভাবে উত্তর দেন এবং দেশের চলমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মতামত তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ত্যাগ ও অবদানকে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
দেশ গঠনে দল-মত ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ ও একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ আন্দোলনে বহু শহীদের বিনিময়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছি। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা জুলাই সনদ এবং গণভোট দিয়েছি।৭০% মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছে।সরকার মুখে বলছে তারা অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করবে।কিন্তু কাজ করছে তার ঠিক উল্টো।
তারা দায়িত্ব নেয়ার পরেই জাতির সাথে তামাশা শুরু করেছে। তারা বিচার বিভাগ পৃথকিকরণ দুদক আইন,গুম কমিশন,পাবলিক সার্ভিস কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সব সংস্থার তারা বাদ করে দিয়েছে। তারা ফ্যাসিবাদের পথের হাঁটছে।
লং মার্চ এবং মহাসমাবেশের প্রস্তুতি চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের অধিকার আদায়ে রাজপথে এবং সংসদে সমান ভূমিকা রাখবো। গ্যাস বিদ্যুত দির্ঘদিনের সমস্যা কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকরি কোন উদ্যোগ নেই। প্রতিটি দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষ বলতে শুরু করেছে আগেই ভালো ছিল।এতে ফ্যাসিবাদ আবারও ফিরে আসার প্রক্ষাপট তৈরি করছে সরকার।
ভারতে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে তিনি বলেন, সমতার ভিত্তিতে আমরা আলোচনা চাই।তারা সীমান্তে মানুষ হত্যা করছে। প্রতিদিন মানুষ পুশিং করার চেষ্টা করছে।হাসিনা ভারতে থেকে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অথবা ভরত সরকার তাদের সহায়তায় করছে। তাকে ফেরত দিতে হবে। এসব বিষয় সিন্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অসম্মানজনক সফরে যাওয়া ঠিক হবে না।
মতবিনিময় সভায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।