যথাযোগ্য মর্যাদায় সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে দেশের ৫৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ‘কালরাতে’ নিরস্ত্র মানুষের ওপর নৃশংস হামলার পর ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেই থেকে দিনটি স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। এদিন ছিল সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকার। দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ নিবন্ধ, সাহিত্য সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।
এদিন ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ভোরে তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও উত্তোলন করা হয় বড় আকারের জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভবন ও বহুতল ভবনেও পতাকা ওড়ানো হয়। বিকেলে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা দেন রাষ্ট্রপতি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল ৮টায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শোভাযাত্রা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় । পাশাপাশি দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোতেও স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর জাহাজ। এসব জাহাজ চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা, পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা এবং বরিশালে বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে অবস্থান করে। এছাড়া চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জে কোস্ট গার্ডের জাহাজও উন্মুক্ত রাখা হয়। এ উপলক্ষ্যে বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফুটবল, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, কাবাডি ও হাডুডুসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও বেতার কেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে । ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জাদুঘরগুলো সারাদিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয় এবং শিশুদের জন্য খোলা রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র। দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশব্যাপী সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বিভিন্ন কল্যাণ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয় বলে জানা গেছে।
রাজশাহী ব্যুরো : গতকাল বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানাবিধ কর্মসূচির আয়োজন করে। এর মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধাদের রূহের মাগফেরাত কামনা এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া, পবিত্র কোরআন খতম, আলোচনা সভা প্রভৃতি।
কুচকাওয়াজ: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকালে রাজশাহী জেলা মুক্তিযোদ্ধা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার বজলুর রশীদ। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কুচকাওয়াজ শুরু হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কুচকাওয়াজ শেষে মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শিত হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি-সহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি: সকাল ৮টায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এড. এরশাদ আলী ঈশাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন, মহানগর বিএনপি সভাপতি মামুন উর রশিদ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও প্রশিক্ষণ একাডেমির উদ্যোগে বিভাগীয় কার্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. এরশাদ আলী ঈশা। বিশেষ অতিথি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপ-পরিচালক ডা. আসেম আলী। সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ ইমামুল ইসলাম। শেষে শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা ব্যুরো : মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপতি হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্ল¬ামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়।
গল্ল¬ামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা প্রশাসক আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, কেডিএ, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, খুলনা প্রেসক্লাব, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা, মৎস্য দপ্তর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিএনপি জেলা ও মহানগর অঙ্গসংগঠনসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। পরে একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস, পিআইডির আয়োজনে নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। তাদের আতœাহুতিতে অর্জিত হয় আজকের এই স্বাধীনতা। মুক্তিযোদ্ধাদের ছাড়া বাংলার ইতিহাস কখনও সম্পূর্ণ হবে না।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী ও বিভিন্ন স্কুলের ডিনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে গল্লামারী বধ্যভূমিতে গিয়ে শেষ হয়।
গাজীপুর : মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গাজীপুরে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দেশাত্মবোধক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা করা হয়। পরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, জেলা পুলিশ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, গাজীপুর প্রেস ক্লাব,জেলা পরিষদ, শিল্প পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানায়।
দিবসটি উপলক্ষে দুপুরে বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুল করিম ভূঁইয়া। উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) আহাম্মদ হোসেন ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ শাহরিয়ার নজিরসহ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে গাজীপুরের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও দিবসটি উদযাপিত হয়েছে নানা আয়োজনে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, দোয়া ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং দেশের অগ্রযাত্রায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে মহাপরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গার্ড অব অনার এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় প্রো-ভিসি, ট্রেজারারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তিনি স্বাধীনতার চেতনায় বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দোয়া ও প্রার্থনার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে র্যালি, পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা স্বাধীনতার চেতনায় দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।