মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের তৃতীয় দিন আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মাহে রমযান। প্রতিবছর রমযানে নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ে। এবছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। যদিও গেল বছর রমযানে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের দাম কিছুটা স্বাভাবিক ছিল। এবার রমযান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। আবার বেশ কয়েকটির ক্ষেত্রে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে সার্বিক স্বস্তি ফিরছে না নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারে। বরং নতুন করে বাড়ছে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা। তবে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সিন্ডিকেট করে কেউ যদি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে তাদের ছাড় দেয়া হবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোক্তাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই রমযান শুরু হওয়ায় বাজারে তদারকি দুর্বল হতে পারে। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম আরো বাড়াতে পারেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় বাজারে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ে, ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কথা বলে আগাম মূল্য সমন্বয় করেন। তবে এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি জরুরি।
রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই তাদের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ বলছেন, গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যে স্বস্তি থাকলেও বেশ কয়েকটি অপরিহার্য পণ্যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে মাসিক বাজেট ভেঙে পড়ছে অনেক পরিবারের।
সূত্র মতে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই চাপ কিছুটা কমেছিল। বিশেষ করে গত বছরের রমযানে অতি জরুরি কয়েকটি পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসায় স্বস্তি ফিরেছিল বাজারে। কিন্তু এবার সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রমযানের আগমুহূর্তে বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনী ছুটির প্রভাবে সরবরাহ কিছুটা কম ছিল। যদিও এই সময়ে চাহিদা বেড়েছে। তাদের দাবি, এ ঘাটতির সুযোগে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমযানকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। তাই অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার সুযোগ নেই। তবে বাজারে ঘুরপাক খাচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন। সরবরাহ ঘাটতির আড়ালে কোনো অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট কি দাম নিয়ন্ত্রণ করছে? বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে।
আজ বৃহস্পতিবার থেকৈ শুরু হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ইবাদত পবিত্র মাহে রমযান। দীর্ঘ এক মাস বিশে^র মুসলমানরা সিয়াম সাধানার মধ্য দিয়ে দিনের বেলা অতিবাহিত করবেন। রমযানে বেশ কিছু নিত্যপণ্য অথীব জরুরি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে লেবু। সারাদিন রোজা রাখার ফলে ইফতারের সময় এক গ্লাস লেবুর শরবত পানির পিপাসা মিটায়। তবে এবার রোজার আগেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে লেবুর দাম বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে প্রতি হালি লেবুর দাম ৭০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করছে, যা ছোট সাইজ থেকে বড় জাম্বুরা সাইজের লেবু পর্যন্ত প্রযোজ্য। এর ফলে প্রতি পিস লেবুর দাম প্রায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত পড়ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, এখন লেবুর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। এছাড়া কিছু বাগান মালিক রমযান শুরু হওয়ার আগে গাছ থেকে লেবু না পাড়ায় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
রাজধানীর খুচরা বাজারে লেবুর দাম বেশি হওয়ায় রমযানকে সামনে রেখে অনেক ক্রেতা পাইকারি দামে লেবু কিনতে কারওয়ান বাজারে এসেছেন। বেসরকারি চাকরিজীবী তানভীর জানান, ৩২ টাকা করে ৩০টি লেবু কিনলেন এবং বললেন, এলাকার বাজারে দাম অনেক বেশি। যদিও পাইকারি বাজারের দামও বেশি, তবে খুচরা বাজারের তুলনায় কিছুটা কম পেয়ে ভালো লাগলো। রমযান না আসতেই এভাবে দাম বাড়াটা অযৌক্তিক মনে হলো।
সূত্র মতে, রমযান ঘিরে আমদানি নির্ভর খাদ্যপণ্যের বাজারে প্রতি বছরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, এঙ্কর ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও খেজুরের চাহিদা এ সময় বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এবারও আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। জানা গেছে, শুধু রমযান মাসেই সয়াবিন তেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন। একই সময়ে চিনির চাহিদাও ৩ লাখ টন। ছোলার চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টনের মধ্যে। মসুর ডালের প্রয়োজন ২ লাখ ৫ হাজার টন। পেঁয়াজের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টন। আর খেজুরের চাহিদা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন পর্যন্ত পৌঁছায়। জানা গেছে, প্রত্যেকটি পণ্যেরই চাহিদার তুলনায় মজুদ কম আছে। ফলে সিন্ডিকেট চক্র দাম নিজেদের মতো বাড়িয়ে ভোক্তাদের পকেট কাটছে।
তবে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রেই ২৫ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মজুত রয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যমান চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পণ্য দেশে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি বাস্তবেই মজুত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হয়, তবে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা কোথায়?
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলার দাম কিছুটা কমেছে। গত বছরের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এতে এ পণ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। কিন্তু মসুর ডাল ও এঙ্কর ডালের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। গত বছর রোজার একদিন আগে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছোট দানার মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাজারে একই ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা। মোটা দানার মসুর ডালের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর যা ছিল ৮০ টাকা, এখন তা ১০০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে এঙ্কর ডাল গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকা কেজি দরে। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। অর্থাৎ এ পণ্যে এক বছরে বৃদ্ধি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। রোজার ঠিক আগ মুহূর্তে আটা, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর রমযানের আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকায়। এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৫ টাকা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। গত বছর রোজার একদিন আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন রোজা শুরুর আগেই ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
খুচরা বাজারে দেখা গেছে, গত বছর রোজার একদিন আগে চিনি বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪৫ টাকায়। চলতি বছরে একই সময়ে তা পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে কমেছে সর্বনি¤œ ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত। দেশি রসুনের দামও কমেছে। গত বছর প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থাকলেও এখন তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ডজনপ্রতি দাম ১৪০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দামও বছরের ব্যবধানে কিছুটা নি¤œমুখী রয়েছে, যদিও বাজারভেদে দামে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
রমযান সামনে এলেই সবজি বাজারে দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচ, ইফতার টেবিলের অপরিহার্য এই তিন পণ্যে প্রায় প্রতি বছরই বড় পরিবর্তন দেখা যায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গোল কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। গত বছর রমযান শুরুর একদিন আগে একই বেগুনের দাম ছিল ৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। কালো লম্বা বেগুন ও সাদা গোল বেগুনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর ৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও এবার তা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর রমযানের শুরুতে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে তা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে সর্বনি¤œ ৪০ টাকা, সর্বোচ্চ ৮০ টাকা পর্যন্ত।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। মুগদা বাজারে সবজি কিনতে আসা শরীফ বলেন, ভোটের সময় ব্যবসায়ীরা গাড়ি না আসার অজুহাত দিয়ে দাম বাড়িয়েছিল। এখন সেই সমস্যা নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ছে, তা বোধগম্য নয়। তার অভিযোগ, প্রতি বছর রমযানের আগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি সবার জানা থাকলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না। সরবরাহে বড় ঘাটতির প্রমাণ না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে দামের উল্লম্ফন ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলছে, বাজার কি স্বাভাবিক নিয়মে চলছে, নাকি আগাম প্রত্যাশাকেই পুঁজি করা হচ্ছে?
সূত্র মতে, গত বছর ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার রোজা শুরুর আগেই তা ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত। গরুর মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। গত বছর রোজার আগে একই পণ্য পাওয়া যেত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে খাসির মাংসে বড় পরিবর্তন নেই। গত বছরের মতোই প্রতি কেজি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমযান ঘিরে খেজুরের বাজারেও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট মূল্যবৃদ্ধি। যদিও ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে, তবুও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বরং বেশিরভাগ জনপ্রিয় খেজুরেই বেড়েছে দর। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া জাহিদী খেজুর বর্তমানে প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর রোজা শুরুর একদিন আগে একই খেজুর ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া গিয়েছিল। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা। বাজারে সবচেয়ে কম দামে মিলছে বস্তা খেজুর। প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দাবাস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা, বড়ই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে আপেল বিক্রি হচ্ছে কেজি ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকা। ফুজি আপেল ৩০০-৩৫০ টাকা এবং সবুজ আপেল ৪০০-৪৫০ টাকা। কমলার দাম ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, মাল্টা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, নাশপাতি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। সাদা আঙুর ৫২০-৫৫০ টাকা, কালো আঙুর ৫৫০-৬০০ টাকা এবং আনার ৪৫০ থেকে ৬৫০ টাকা। পার্সিমন ফলের দাম প্রতি কেজি এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এ দিকে ড্রাগন ফল ২০০-২৫০ টাকা, সফেদা ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শীতের মৌসুমে বরই ও কুল বাজারে এলেও দাম কমেনি। মাঝারি আকারের বরই ১৫০-২০০ টাকা, কুল ২৫০-৩০০ টাকা এবং ছোট বরই ১০০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
রমযান ঘিরে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে বাজার ব্যবস্থায় যে ব্যত্যয় তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ঠিক না করলে রমযানে ভোক্তাদের বাড়তি মূল্য গুনতে হতে পারে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় অসামঞ্জস্যের প্রমাণ নেই। তবুও বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে মূলত বিতরণ ও বাজারজাতকরণ পর্যায়ের সমস্যার কারণে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)–এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোজার পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। তবে নির্বাচনের কারণে বাজারজাতকরণে কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে। তার মতে, আগামী কয়েকদিন কারখানা ও গুদাম থেকে রোজার পণ্য সরবরাহে বিশেষ নজর দিলে মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)–এর সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। রমযানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। সরবরাহ, বিতরণ ও তদারকির ঘাটতি দূর করা গেলে ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।
পবিত্র মাহে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র আমির ডা. শফিকুর রহমান। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পবিত্র রমযান উপলক্ষে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকির মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, মাছ, গোশত, শাকসবজি, চিনি, খেজুর, ছোলা ও মুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে।
এদিকে রমযানে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে সরকার কঠোর বাজার তদারকি, অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমাননের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে পণ্য মজুদ রাখা ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।