কক্সবাজারের টেকনাফের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে থেমে থেমে গোলাগুলি ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালেও সেখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। টানা তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে চলমান এই সহিংসতায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে। এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে, ফলে সেখানে জান্তা বাহিনীর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের দাবি, রাখাইন রাজ্যে একাধিক রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে সীমান্তজুড়ে আরাকান আর্মি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত চলমান রয়েছে।

এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকাতেও। গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলে পরিবার নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছে না, আর সীমান্তবর্তী মানুষজন ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী কয়েকটি বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়ি-ঘর কেঁপে উঠছিল। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত আবারো ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। এখন মাঝে মধ্যে দু’একটি ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে।

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, গত তিনদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা শব্দগুলো আরও তীব্র হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ভয়ে ঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যাওয়ার কথা ভাবছে। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত।

তিনি আরও বলেন, হোয়াইক্যং সীমান্তের খুব কাছাকাছি এলাকায় এসব সংঘর্ষ চলছে। এর আগে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি এপারের বাসিন্দাদের শরীরে লেগেছে। এখনো স্থানীয়দের মধ্যে আশঙ্কা, যেকোনো সময় এপারে গুলি এসে পড়তে পারে। গোলাগুলির শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠছে, ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।