দেশে দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পর স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় সব ধারার সম্পাদকদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় প্লাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার সম্পাদকরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এ সময়ে গণমাধ্যমেরও পুনর্গঠন জরুরি। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় গণমাধ্যমের ওপর যে প্রাতিষ্ঠানিক ও মানসিক নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের কারণে সংবাদমাধ্যমে ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্বপ্রণোদিতভাবে সত্য প্রকাশে বিরত থাকার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এককভাবে কোনো সম্পাদকের পক্ষে এই ভয়ের দেয়াল ভাঙা সম্ভব নয়। তবে সম্পাদকরা সম্মিলিতভাবে দৃঢ় অবস্থান নিলে সাংবাদিকদের মধ্যে সাহস ও আস্থা তৈরি হবে এবং সংবাদকক্ষগুলো নির্ভীক সাংবাদিকতায় ফিরে আসতে পারবে।

সম্পাদকরা বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অনেক গণমাধ্যমের মালিকানা নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছিল। ফলে সাংবাদিকতা অনেক ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হয়। এ অবস্থায় সম্পাদকীয় নীতিকে করপোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে শক্তিশালী সম্পাদকীয় ঐক্য প্রয়োজন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মতো বিভিন্ন দমনমূলক আইন ব্যবহার করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা হয়েছে। এসব আইনের সংস্কার বা বিলোপ নিশ্চিত করতে সম্পাদকদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা প্রয়োজন।

সম্পাদকরা বলেন, এই ঐক্য শুধু অধিকার আদায়ের জন্য নয়, সাংবাদিকতার নৈতিক মানদ- ও আত্মশুদ্ধি নিশ্চিত করতেও জরুরি। একটি ঐক্যবদ্ধ সম্পাদকীয় ফোরাম গণমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ কমাবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন এই প্লাটফর্ম কোনোগোষ্ঠী বা মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করবে না; বরং দল-মত নির্বিশেষে দেশের সব গণমাধ্যমের সম্পাদকদের জন্য একটি অভিন্ন মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি অচিরেই এ বিষয়ে সাংগঠনিক উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

দৈনিক আমার দেশের সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনামের পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন শফিক রেহমান (যায়যায় দিন), মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ), সালাহ উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (নয়াদিগন্ত), আবদুল হাই শিকদার (যুগান্তর), আবু তাহের (বাংলাদেশ প্রতিদিন), মারুফ কামাল খান সোহেল (প্রতিদিনের বাংলাদেশ), হাসান হাফিজ (কালের কণ্ঠ), আযম মীর শাহীদুল আহসান (সংগ্রাম), মোকাররম হোসেন (নিউনেশন), শফিকুল আলম (ওয়াদা), সৈয়দ মেসবাহ উদ্দীন (বাংলাদেশের খবর), রেজাউল করীম লোটাস (ডেইলি সান), মোস্তফা কামাল (খবরের কাগজ), বেলায়েত হোসেন (ভোরের ডাক), ওবায়দুর রহমান শাহীন (জনতা), শহীদুল ইসলাম (মানবকণ্ঠ), মো. সায়েম ফারুকী (রূপালী বাংলাদেশ), মনির হোসেন (খোলা কাগজ), ইলিয়াস খান (টাইমস অব বাংলাদেশ), মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব (বাংলাবাজার পত্রিকা), শেখ নজরুল ইসলাম (খবর সংযোগ), আবুল কাশেম মজুমদার (ক্যাপিটাল নিউজ), ব্যারিস্টার মো. মারুফ ইব্রাহীম আকাশ (খবরপত্র), শামসুল হক দুররানি (নওরোজ), শাহাদাত হোসেন শাহীন (গণমুক্তি), আফসার উদ্দিন চৌধুরী (কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম), সোহেল মাহবুব (নতুন প্রভাত, রাজশাহী), মাহবুবা পারভিন (অনির্বাণ, খুলনা), শান্তনু ইসলাম সুমিত (লোকসমাজ, যশোর), খন্দকার মোস্তফা সরোয়ার অনু (দাবানল, রংপুর), মততাজ শিরিন ভরসা (যুগের আলো, রংপুর), আশরাফুল হক (প্রবাহ, খুলনা), মুক্তাবিস উন নূর (জালালাবাদ, সিলেট) এবং সাইফুল ইসলাম (নিউ টাইমস, ময়মনসিংহ)।