বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করবো তবে তা যেন হয় মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের মাধ্যমে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও মহানগরী সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোঃ তসলিম।
আমীরে জামায়াত আরো বলেন, একজন পরিবহন শ্রমিক দৈনিক কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার তেল পায়, শ্রমিকদের সারাদিন তেলের জন্যই সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যার ফলে তাদের উপার্জন কমে যাচ্ছে। ওদিকে পাম্পগুলো বলছে আমরা আগের অর্ধেক তেল পাই, শ্রমিকদের পরিবারগুলো তাদের আয় কমে যাওয়ায় তাদের কষ্টের পরিসীমা আরো বেড়েছে অথচ এবিষয়ে সংসদে কথা বলতে চাইলে বলতে দেওয়া হয় না।
ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে তার জোটকে হারানোর ইঙ্গিত করে বলেন কেউ যদি জনগণকে ধোকাদিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়ে থাকে তাহলে সে/তারা নিজেদেরকেই ধোকা দিয়ে যাচ্ছে, তারা দেশের কল্যাণ চায় না, তাদের মনে রাখতে হবে জনগণ তাদের একই কাজ বারবার করতে দিবে না, সামনে জনগণ এগুলো প্রতিরোধ করবে।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনের আগে কিছু সুযোগ সুবিধা নিবো না, আমরা সে কথা রেখেছি। আমাকেও গাড়ি সহ যে সুযোগ সুবিধা দিয়েছিলো লিখিতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছি। শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমীর বলেন শ্রমিকের ন্যায় সংগত অধিকার আদায়ে সর্বদা মাঠে কাজ করে যেতে হবে, তবে কোন অবস্থায় কোন নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে ফ্যাক্টরিতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে শুধু মালিক নয় বরং মালিক, শ্রমিক ও দেশের জনগণ সবাই তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এজন্য সকল নৈরাজ্য ঠেকাতেও পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নতুন ব্যাংক আইনের মাধ্যমে ব্যাংক ডাকাতদের হাতে জনগণের আমানতের টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে, আমরা এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই আমরা এর প্রতিরোধ করবো ইনশাআল্লাহ্।
তিনি আরো বলেন, অনেক সময় মিডিয়াকে সত্য প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না, তাদেরকে মিথ্যা প্রচারে বাধ্য করা হয়। আমরা এগুলোর বিরুদ্ধেও সংসদে কাজ করছি। এদেশের শ্রমিকদের চাওয়া পাওয়া খুব মামুলী। কিন্তু এদেশের কোনো সরকার আজ পর্যন্ত শ্রমিকদের ন্যূনতম এই দাবিটুকু পূরণ করতে সদয় হয়নি। মূলত রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা যায় তারা তো সোনার চামচ নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। ফলে তারা শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। তিনি বলেন, অনেক শ্রমিক সংগঠন অধিকারের নামে মালিক ও উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করেছে। আমি তাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই মালিক যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কোথায় হবে? তারা মালিক-শ্রমিকের মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলতে চাইলেও আমরা মালিক-শ্রমিকের মাঝে ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। ইসলাম বলে, শ্রমিক-মালিক পরস্পর সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করবে। একে অপরের শত্রু হবে না। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে। শিল্পও বাঁচবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকের সকল দায়িত্ব মালিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। মালিক ইনসাফ অনুযায়ী শ্রমিকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ নিতে জোর দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আ.ন.ম. শামছুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সকল সমস্যা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। শ্রমিকরা একশ্রেনীর নেতাদের খায়েশ মেটানোর মাধ্যম হিসাবে বারংবার ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। অনুষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সারাদেশের সকল জেলা মহানগরীর সভাপতি সাধারণ সম্পাদক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন
গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত শিশু হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের দেখতে যান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
পরিদর্শনকালে তিনি আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি চিকিৎসকদের প্রতি হাম-আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি রাজধানীর আসাদ গেইট সংলগ্ন পেট্রল পাম্প পরিদর্শন করেন এবং জ্বালানি তেলের সর্বশেষ অবস্থার খোঁজ নেন।
বিরোধীদলীয় নেতার সাথে ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সদস্য জাহিদুর রহমান এবং উত্তরের প্রচার সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার।