আজ পর্দা নামছে দেশের অন্যতম বড় সাহিত্য উৎসব অমর একুশে বইমেলা-এর। নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং প্রকাশকদের বিক্রি নিয়ে অসন্তোষের মধ্য দিয়েই রোববার (১৫ মার্চ) শেষ হচ্ছে এবারের ১৮ দিনের সংক্ষিপ্ত আয়োজন।
প্রথাগতভাবে প্রতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু হলেও এ বছর বাংলা একাডেমি আয়োজিত এ মেলা শুরু হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সময়সূচিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তবে মেলার সময়সীমা কমে যাওয়ায় এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ায় বই বিক্রিতে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেলা আয়োজক ও প্রকাশকরা জানিয়েছেন, সমাপনী দিনে মেলা প্রাঙ্গণে পাঠক, লেখক ও দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ মুহূর্তে প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করতে দুপুরের পর থেকেই পাঠকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠতে পারে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা।
এবারের বইমেলায় দেড় হাজারের বেশি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। তবে সময় কম থাকা, যাতায়াতজনিত ভোগান্তি এবং অন্যান্য কারণে গত বছরের তুলনায় এবারের বিক্রি কম হয়েছে বলে প্রকাশকদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।
সমাপনী উপলক্ষে বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ প্রকাশনাগুলোর জন্য ‘গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান এবং মেলার সার্বিক অর্জন নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
প্রকাশকদের অনেকেই জানান, ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু এবং ১৫ মার্চ সমাপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু থেকেই তাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। তাদের দাবি, সময় কম থাকায় অনেক বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও এবার তাদের বিনিয়োগের অর্ধেকও তুলতে পারেনি।