জাতীয় সংসদে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য ঘোষিত বাজেটকে গণবিরোধী ও শোষণের হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা।

তিনি আজ রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ওভার ব্রিজের নিচে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত সরকার ঘোষিত বাজেট প্রত্যাখান করে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নাজিম উদ্দীন মোল্লা বলেন, সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগছে। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের খাতের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। উপেক্ষিত হয়েছে রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও। জনগণ আশা করেছিলো জুলাই বিপ্লবের পর নতুন সরকার একটি গণমুখি বাজেট প্রদান করবে। কিন্তু সরকার জনগণকে আশাহত করে গণবিরোধী বাজেট দিয়ে পতিতদের মত স্বৈরাচারি আচরণ শুরু করেছে। ঘোষিত বাজেটে গণমানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি সরকারকে সময় থাকতে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে পরামর্শ করে বাজেট সংশোধনের আহবান জানান।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নো’মান আহমেদি, মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা কুতুবউদ্দিন ও ফজলে আহমেদ প্রমূখ। বিক্ষোভ মিছিলটি উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে গুলশান লিংক রোডে এসে শেষ হয়।

ডা.ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, বাজেটের পরিসর বৃহদাকার হলেও তা বাস্তবায়ন সহজসাধ্য হবে না। এ বিশাল বাজেট বাস্তবায়নের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। কিন্তু সরকার ক্ষমতার দম্ভে সকলকে উপেক্ষা করার নীতি গ্রহণ করেছে। দেশ ও জাতিকে অতীতের মতো বিভাজন ও বিভক্ত করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম ইসলামী ব্যাংকে তারা লুটেরা ও নৈরাজ্যবাদীদের হাতে তুলে দেওয়ার অপতৎরতা শুরু করেছে। আর তা অব্যাহত থাকলে সরকার ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়ন করা কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। জনগণের ঐক্য ছাড়া এ সরকারেরর পক্ষে কোন বাজেটই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি জনগণকে আস্থায় নিয়ে সরকারকে ইতিবাচক রাজনীতিতে ফিরে আসার আহবান জানান।