বাংলাদেশে ফেরার আশায় ভারতীয় সীমান্তে নথিবিহীন মানুষদের দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র আজও অপরিবর্তিত। গত এক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানার হাকিমপুর চেকপোস্টে ভিড় করছেন বাংলাদেশে ফিরতে ইচ্ছুক বহু মানুষ। তাদের মধ্যে উপযুক্ত নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রায় শতাধিক বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে তুলে দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের অভিযোগ ছিলো। তবে সম্প্রতি ভারতীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থ্রিডি নীতির (ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট) ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে তাদের মধ্যে। ফলে তারাই এখন অনেকেই স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফেরত যেতে সীমান্তে ভিড় জমিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাস, প্রাইভেটকার ও অন্যান্য যানবাহনে করে সীমান্তে পৌঁছানোর পর বিএসএফ সদস্যরা তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করছেন এবং নিচ্ছেন বায়োমেট্রিক ফুটপ্রিন্ট। যাদের কাছে বাংলাদেশি পরিচয়ের কোনো নথি রয়েছে, সেগুলোও যাচাইয়ের জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে। পরে এসব তথ্য বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পর্যন্ত হাকিমপুর, স্বরূপনগর বাজার ও তেঁতুলিয়া সীমান্ত এলাকায় চারটি হোল্ডিং সেন্টারে অন্তত ৩৫০ জনকে রাখা হয়। এর মধ্যে শুক্রবার বিজিবি-বিএসএফ সমঝোতার ভিত্তিতে ১০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সীমান্ত ও হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে নিজেদের বাংলাদেশি দাবি করা আরও প্রায় ৫০০ মানুষ অপেক্ষায় রয়েছেন।

সীমান্তে অপেক্ষমান বাংলাদেশি নাগরিকরা স্বীকার করেছেন, বিভিন্ন সময় দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন তারা। সেখানে কেউ শ্রমিক, কেউ গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন। এমনকি ভারতীয় নাগরিকত্বের নথিও সংগ্রহ করেছিলেন বলে দাবি করেন অনেকে।

বাংলাদেশের হাকিমপুর সীমান্তে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিএসএফ। সীমান্তে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে বিএসএফের সদস্যরা।