বিচারের নামে অবিচার, বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশার কারণে দেশে অপরাধ বাড়ছে এমন মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন নিহত রামিসার বাবার সঙ্গে দেখা করেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সেখানে যান জামায়াত আমির।

WhatsApp Image 2026-06-01 at 6.40.22 PM

রামিসার পিতাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৯ মে রামিসা হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেদিন দিবাগত রাতেই আমি হজের সফর শুরু করি। ওই সময়ই খবর পাই যে এ ধরনের একটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। আমার সহকর্মীদের অনুরোধ করেছিলাম যে আমরা সবাই সেখানে যাব, তাদের সান্ত্বনা দেব এবং তাদের কষ্টের অংশীদার হবো।

তিনি বলেন, পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের প্রিয় সংগঠন সোচ্চার ছিল, প্রতিবাদ মিছিল-মিটিং করেছে ও বিচারের দাবি জানিয়েছে। ঘাতক নরপশুর বিচার সম্পন্ন হওয়ার পরে শাস্তি বাস্তবায়নে কার্যকর করার দাবিতে আমরা কর্মসূচি পালন করেছি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি স্পষ্ট- যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। যারা এভাবে আত্মস্বীকৃত, ধর্ষণকারী ও হত্যাকারী এদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই হলো এদেরকে সহযোগিতা করা, অন্যায়ের পক্ষ নেয়া, দুস্কৃতিকারীর পক্ষ নেয়া।

জামায়াত আমির বলেন, আমি অনুরোধ করব, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ায়। আমি আহ্বান জানাব, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনীতি না করেন। এটা আমাদের ইজ্জত বাঁচানোর লড়াই। এই মেয়ে আমাদের ক্ষমা করবে না, যদি এই মেয়ের বিচার সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হয় এবং রায় কার্যকর না করা হয়। হাশরের দিন আমরা সবাই আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যাব। আমরা সেই আসামি হতে চাই না।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে। আমরা চাই এ সংস্কৃতি থেকে বিচার বিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচার বিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক। স্বাধীনতা নিয়ে তারা ন্যায়বিচার করুক। আমরা এটিই দাবি করব।

তিনি বলেন, আমরা সারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে দাবি জানাই, রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার অতি দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। কোনো আলামতের প্রয়োজন নেই, আলামত স্পষ্ট। অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী কোনোভাবেই রেহাই পেতে পারে না। এ দুজনকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ধানাই পানাই করে আরও কারো নাম বলতে পারে বিচারকে দীর্ঘসূতিতায় ফেলতে। এটি একটি চক্রান্ত। রামিসার বিচার নিয়ে কোনো তামাশা করা হোক আমরা তা চাই না।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনেই শুধু রামিসার জন্য না, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াবো, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে।

তিনি আরও বলেন, রামিসার মা-বাবা দুজনেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দুজনকে আল্লাহ সুস্থতার নেয়ামত এনায়েত করুন। আর রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। এ ঘটনায় ব্যথিত হয়ে ধর্ষক খুনির প্রতি ধিক্কার ও নিন্দা জ্ঞাপনকারীদের ধন্যবাদ জানান আমীরে জামায়াত।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি বলব নীরবে শুধু ধিক্কার ও নিন্দা নয়, আসুন এ ব্যাপারে সোচ্চার ও সরব হই। আমি কথা দিচ্ছি, আমরা এ নিয়ে রাজপথে আছি, সংসদে থাকবো এবং রাজপথে আপনাদের সাথে থাকবো। এদেশ আমাদের, দেশকে, সভ্যতাকে, সংস্কৃতিকে এ মানবতাকে জাগিয়ে তোলা, বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।

এসময় জামায়াতের আমিরের সঙ্গে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, কর্নেল আবদুল বাতেন এমপিসহ ঢাকা মহানগরী উত্তরের নেতৃবৃন্দ।