জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর অফিসে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সাথে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সভায় অধ্যাপক মুুজিবুর রহমান বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সমস্যা সমাধানে নি¤œলিখিত দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করেন :
শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয় করণ, জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত শতভাগ উৎসব বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো পাওয়ার ব্যাপারে জোর দাবি জানান। এছাড়াও অবসরভাতা ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সচল স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (ইবতেদায়ি মাদরাসাসহ) এমপিও ভুক্তির গেজেট ঘোষণা করে সেপ্টেম্বর মাস থেকে বেতনভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য সচিব ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের ২০ দফা দাবি সম্বলিত দাবিনামা শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক এবিএম ফজুলল করীম বলেন, বিগত ১৬ বছরে অনেক শিক্ষককে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থন করার কারণে অন্যায়ভাবে ফ্যাসিস্ট সরকার চাকরিচুত বা বরখাস্ত করেছিলো। তাদের কেউ ২, ৪, ৫ এমনকি ১৬ বছর পর্যন্ত বকেয়া বেতনভাতা পায়নি। এদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন, কেউ অবসর গ্রহণ করেছেন আবার কেউ চাকরিতে বহাল হয়েছেন। কিন্তু অনেকেই তাদের সাসপেন্ড বা বরখাস্তের সময়ের কোনো বকেয়া বেতনভাতা এখনো পাননি। উক্ত বকেয়া বেতনভাতা অতিদ্রুত পাওয়ার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। একই সাথে তিনি সৎ ও যোগ্য শিক্ষকদের সমন্বয়ে অবিলম্বে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন।
শিক্ষক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শোনার পর মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জতীয়করণের কাজ চলমান রয়েছে এবং উৎসবভাতা আরো ১০% বর্ধিত করা হয়েছে। অবসর সুবিধাভাতা ও কল্যাণ ফান্ডের অর্থ যাতে দ্রুত সময়ে পেতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি উত্থাপিত সকল দাবি পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. উমার আলী, প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক মো: রবিউল ইসলাম। কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল আজিজ, মাসুদ সাঈদী এমপি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রমুখ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।