দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো দিকে তাকিয়ে আছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি, আমাদের আগামি দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা। আসুন, আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই; যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে পারি।

pm-2

শনিবার বিকেলে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিকেলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। তার সাথে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য এবং সিনিয়র নেতারা অংশ নেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসে পৌঁছালে আমীরে জামায়াত দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সকলে একত্রিত হয়েছি। এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিছুদিন আগে দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রায় একযুগের বেশি সময় ধরে মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছে। বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতন, গুম-খুনের শিকার হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে পেরেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সেই সুযোগ পেয়েছি। একইভাবে আমরা বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছি। অধিকার চর্চার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আসুন সবাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা আশা নিয়ে আমাদের সকলের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজকের ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি, আমাদের আগামি দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই; যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, দেশকে পরিবর্তন করার কাজ করার তওফিক আমাদের দান করেন।

তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে, আমার সাথে নেতৃবৃন্দ এবং সফল সঙ্গীদের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। আজকে কেবল আমি নই, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ নন, এখানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ আছেন। আছেন অন্যান্য শ্রেণিপেশার সম্মানিত ব্যক্তিগণ। পরিশেষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

dr

ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সরকার এবং সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা। সেই হিসেবে আজকে দিনটি ভিন্ন বার্তা দেয়। ডা. শফিকুর রহমান ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতির জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটি সাজানো রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। সরকার অস্ত্রের ভাষা বেছে নিয়েছিল। নেমে এলে তৎকালীন সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একদিনে ৭০ জন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৪ জনকে হত্যা করেছিল। এই ক্ষত আমাদের মন থেকে কোনোদিন মুছবে না। জামায়াত আমির দলের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ২৪ এর ফ্যাসিবাদ যে এভাবে বিদায় নেবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমাদের সিংহশাবক ছাত্ররা এবং জুলাই যোদ্ধারা এ অসাধ্য সাধন করেছে। যারা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ তাদের কবুল করুন এবং যারা আহত ও পঙ্গু অবস্থায় আছেন, জাতি তাদের চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

বর্তমান সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ এবং জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না, এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। আমরা অতীতের মতো ‘ডামি’ বিরোধী দল হতে চাই না। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেব।

জাময়াত আমির বলেন, আমরা চাই না সংসদের একটি সেকেন্ডও কারো চরিত্র হননের পেছনে নষ্ট হোক। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।

বক্তব্যে জামায়াত আমির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ফিরে এসে তিনি এটিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। জেলে থেকে আমরা তার সেই সাহসী ভূমিকা দেখেছি। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রমজান আমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতির শিক্ষা দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তার হাতে কখনো জনগণের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। আমরা যেন এই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারি।

WhatsApp Image 2026-02-28 at 7.10.30 PM

ইফতার মাহফিলে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেম ওলামায়ে কেরাম, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাইযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সদস্যরা অংশ নেন। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের মধ্যে ইফতারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মঈন খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষ যোগ দেন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৫টায় রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল শুরু হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সঞ্চালনায় ক্বারী বেলাল হোসাইনের পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শেষ হয় আল্লামা মামুনুল হকের মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।