বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, অতীত সরকার আমদানিনির্ভরতার মাধ্যমে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে এ ফাঁদ তৈরি করেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিআইআইএসএস মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা’ বিষয়ক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান।
সেমিনারে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় এমন একটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পেয়েছিল, যা ছিল ভঙ্গুর, আর্থিকভাবে রক্তক্ষরণগ্রস্ত এবং কাঠামোগতভাবে দিকনির্দেশনাহীন।
তিনি বলেন, আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বহু দশকের কাঠামোর সঙ্গে মারাত্মক পদ্ধতিগত অদক্ষতা যুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ফাঁদ তৈরি করেছে। বাংলাদেশকে এই ফাঁদে ফেলা হয়েছে।
অতীত সরকার আমদানিনির্ভরতার মাধ্যমে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে এ ফাঁদ তৈরি করেছে।
উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানি খাত স্বাভাবিক করতে সরকার কাজ করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সেমিনারে বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মঞ্জুর আলম প্রধান এবং ইএসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এজাজ হোসেন বক্তব্য দেন।
সেমিনারে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হয়। এতে জ্বালানি সরবরাহ ও সাশ্রয়ী মূল্য, আমদানির ওপর নির্ভরতা, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সম্পদ, অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও সহনশীলতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঘাটতিজনিত বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
সেমিনারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।