রাজধানীর বেইলি রোডের ‘মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট’—যেখানে কেটেছে জীবনের অন্যতম রোমাঞ্চকর আঠারো মাস। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব হিসেবে সেই ব্যস্ত ও নাটকীয় দিনগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন শফিকুল আলম।
শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বেইলি রোডকে বিদায় জানান তিনি।
শফিকুল আলম জানান, নিজের শাহীনবাগের বাসা ছেড়ে বেইলি রোডের সরকারি বাসভবনে ওঠার মূল কারণ ছিল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন ‘যমুনা’র সান্নিধ্য। আঠারো মাসব্যাপী এই যাত্রায় যমুনায় ঘটা অসংখ্য ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী ছিলেন তিনি। অনেক সময় রাতের খাবার ফেলে রেখেও তাকে ছুটে যেতে হয়েছে সংকট মোকাবিলায় এবং সেই খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
শান্ত ও নিবিড় পরিবেশের জন্য বেইলি রোডের যে পরিচিতি, তার কিছুটা ব্যতিক্রমও দেখেছেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ সময় এই এলাকায় থাকলেও নাগরিক কিছু সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ঝরেছে তার কণ্ঠে। তিনি লিখেছেন, ব্যস্ততার কারণে রমনা পার্কে পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেননি তিনি। সাধারণ মানুষের মতো সকালের হাঁটাহাঁটি বা আড্ডায় যোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্ত্রীসহ ফুটপাতের অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করার স্মৃতিটুকু তিনি সযত্নে মনে রেখেছেন।
স্মৃতিচারণের শেষ দিকে শফিকুল আলম বেইলি রোডকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘বিদায়, বেইলি রোড। তুমি ওপর থেকে শান্ত ছিলে ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলে।’ বর্তমানে নিজের দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি এই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।