রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সংক্রান্ত একাধিক অধ্যাদেশে সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, বিচার বিভাগ, মানবাধিকার ও দুর্নীতি দমন কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও সময়সীমার ঘাটতি রয়েছে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য তুলে ধরে টিআইবি। সেখানে সংগঠনটির কর্মকর্তারা বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটি যেসব অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করেছে, তার কিছু অংশ ইতিবাচক হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির শীর্ষ গবেষক ও কর্মকর্তারা। পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক জানান, কিছু অধ্যাদেশ ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ে ভেতর থেকেই বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে, যা সংস্কার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।

টিআইবির বিশ্লেষণে বলা হয়, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিতভাবে আইনে রূপান্তরের সুপারিশ ইতিবাচক হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে জটিলতা রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবকে সংস্থাটি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং গুম প্রতিরোধ বিষয়ে প্রস্তাবিত ১৬টি অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনে না এনে ভবিষ্যতে নতুন করে প্রণয়নের সুপারিশকে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে টিআইবি। তাদের মতে, এসব বিষয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা না থাকায় সংস্কার কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে।

পুলিশ কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়েও সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। তাদের মতে, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী কমিশনের স্বাধীনতা আরও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, সরকারি হিসাব নিরীক্ষা এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংশোধনী নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। টিআইবি বলছে, নিরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি দুর্বল হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংস্থাটির মতে, এসব সংস্কার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হতে পারত। তবে বর্তমান অগ্রগতি সে প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেছে টিআইবি।