আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘ, ইউএনডিপিসহ বিশ্বের অন্তত ৩৫টি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে আটটি ভাগে বিভক্ত এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আ. ন. ম. শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রুনাই, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ইরান, কানাডা, আলজেরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, জাপান, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া, ভুটান, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, ব্রাজিল, ভ্যাটিকানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পাশাপাশি জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, আইআরআই, এনডিআই, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এমএলওসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ এবং জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে মোট ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ‘হ্যাঁ’—সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান এবং ৫টি ‘না’—দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।

এছাড়া ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়।

দলটি আরও জানায়, ইশতেহার প্রণয়নে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশার ২৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ৪০ হাজার মতামতও ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার মাধ্যমে ইশতেহারের মূল দিকগুলো তুলে ধরা হয়।