তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে সরকার ‘হার্ডলাইনে’ যাবে।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে বলতে চাচ্ছে- নতুন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা চলে যাবার কারণে দেশে চরমপন্থা-উগ্রপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি- এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।”

বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে যেন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের ভূমিকা রাখতে পারি।

“যদি আলোচনা-সতর্কতায় কাজ না হয়, যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হয়, সরকার অবশ্যই হার্ডলাইনে যাবে।”

বুধবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে জুলাই-অগাস্টের গণআন্দোলনে নিহত মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশে উগ্রপন্থিদের চোখ রাঙানোর কথা তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরাবিষ্কার করছে, সূচনা দেখছে ইসলামি উগ্রপন্থিরা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টাইমসে।

তবে প্রকাশিত নিবন্ধের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে প্রতিবেদনটিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘অতি সরলিকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে ‘বাংলাদেশ নতুন করে গড়ে উঠছে, ইসলামী কট্টরপন্থীরা সুযোগ খুঁজছে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং বিভাগ। বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।

বিবৃতিতে বলা হয়, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই নিবন্ধটি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি বিভ্রান্তিকর ও একপাক্ষিক ধারণা তৈরি করছে, যেখানে দেশটিকে ধর্মীয় চরমপন্থার করাল গ্রাসে পতিত হতে চলেছে বলে উপস্থাপন করা হয়েছে।