বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সামরিক প্রযুক্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করতে আগ্রহী তুরস্ক।

আজ শুক্রবার (৫ জুন) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে চলমান এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র এবং সাম্প্রতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. সামরিক প্রযুক্তি ও ড্রোন উৎপাদনযৌথ ড্রোন কারখানা:

বাংলাদেশে যৌথ বিনিয়োগে ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র বা ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি স্থাপনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।অত্যাধুনিক ইউএভি (UAV): বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ইতোমধ্যে যুক্ত হওয়া তুর্কি 'বায়রাকতার টিবি-২' (Bayraktar TB2) ড্রোনের পাশাপাশি ভারী অস্ত্র বহনে সক্ষম 'আকিনজি' (Bayraktar Akıncı) এবং স্টেলথ প্রযুক্তির 'আনকা-৩' (Anka-3) ড্রোন সংগ্রহের বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

২. আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System)সিপার ও হিসার-ও: বাংলাদেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় তুরস্কের তৈরি দীর্ঘ পাল্লার 'সিপার' (SİPER) এবং মাঝারি পাল্লার 'হিসার-ও' (HISAR-O) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয়ের বিষয়ে উভয় দেশ কৌশলগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

৩. প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কৌশলগত অংশীদারত্বপ্রযুক্তি হস্তান্তর (Technology Transfer): তুরস্কের এই সহযোগিতার বড় লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে কেবল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করা নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে স্বাবলম্বী করা।

বহুমাত্রিক সম্পর্ক:

প্রতিরক্ষা খাতের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানের ১৩০ কোটি ডলার থেকে আরও বাড়ানোর এবং সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারেও একটি নতুন রোডম্যাপ তৈরিতে দুই দেশ একমত হয়েছে।বাংলাদেশ-তুরস্কের এই উদীয়মান প্রতিরক্ষা সমীকরণ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের সামরিক আধুনিকায়নের (Forces Goal) ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।