সদ্য সমাপ্ত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন জামানত হারিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনি আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জনপ্রতি জামানত হিসেবে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা তারা আর ফেরত পাবেন না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ শেষে রাত ২টার পর যশোর জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান ঘোষিত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
যশোর-১ (শার্শা) আসনে ভোট পড়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৬২৬, যা মোট ভোটের ৭০.৪৮ শতাংশ। জামানত রক্ষার জন্য ভোট পাওয়ার দরকার ছিল ২৭ হাজার ৪৫৩। এ আসনে ৪ প্রার্থীর মধ্যে এক হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান ও এক হাজার ৩৯৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৫, যা মোট ভোটের ৭০.৫৩ শতাংশ। জামানত রক্ষায় দরকার ছিল ৪২ হাজার ৭৪৮ ভোটের। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৮ প্রার্থীর মধ্যে জামানত হারিয়েছেন ৬ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী ৫ হাজার ৭৮১, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের ইমরান খান ৪৭২, স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম ১৮৮, ফুটবল প্রতীকের মেহেদী হাসান ৩৮৯, বাংলাদেশের ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) শামছুল হক ২৩৩ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) রিপন মাহমুদ পেয়েছেন ৪১৬ ভোট।
যশোর-৩ আসনে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৮, যা মোট ভোটের ৬৭.৭৬ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ৫১ হাজার ৯৬২ ভোটের। এ আসনে ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানাত হারিয়েছেন। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শোয়াইব হোসেন ১৩ হাজার ৩২২, জাতীয় পার্টির খবির গাজী ৩ হাজার ৪০৪, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নিজামদ্দিন অমিত এক হাজার ৭৭২ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাশেদ খান ৭৫৩ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
যশোর-৪ আসনে প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০, যা মোট ভোটের ৭২.২৭ শতাংশ। জামানত বাঁচাতে প্রয়োজন ছিল ৪১ হাজার ৪২২.৫ ভোটের। এ আসনে ৮ জনের মধ্যে ৬ প্রার্থীর জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দীন আল-আজাদ ৭৯৭, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন ১১ হাজার ৮৩৮, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী ৩০১, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) আবুল কালাম গাজী ২৫৭, জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম এক হাজার ৭৫১ এবং বাংলাদেশের মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল এক হাজার ৫১০ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
যশোর-৫ আসনে ভোট পড়েছে দুই লাখ ৮৬ হাজার ৩২০, যা মোট ভোটের ৭৬.৫০ শতাংশ। জামানত রক্ষায় ভোটের প্রয়োজন ৩৫ হাজার ৭৯০। এখানে ৬ প্রার্থীর মধ্যে জামানাত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৩ জনের। আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন জাতীয় পার্টির এম এ হালিম দুই হাজার ২৪৫, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের কামরুজ্জামান দুই হাজার ১০৩ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদিন ৪ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে।
যশোর-৬ আসনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৫০৮, যা মোট ভোটের ৭৭.৯০ শতাংশ। জামানত রক্ষায় ভোটের প্রয়োজন ২২ হাজার ৩১৩.৫। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিন জন জামানত বাঁচাতে পারেননি। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির জি এম হাসান ৯৯০, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) মাহমুদ হাসান ৬৭২ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন এক হাজার ২৮৫ ভোট।