সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাতিল করে “ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা, সাধারণ শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষাসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ।
সোমবার (১৮ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) এসব দাবি উত্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তারা দাবি করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংযোজন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ছিল না। তাদের মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও বিশেষায়িত চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান জানান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, কওমি শিক্ষাকে “সংস্কার” করার নামে এর স্বকীয়তা নষ্টের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তিনি আরো বলেন, সরকারি অনুদান ছাড়াই কওমি মাদরাসাগুলো দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। কভিড-১৯ মহামারির সময় কওমি আলেমদের ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়।
১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
সংবিধান সংশোধন করে “ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা, সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ইসলামি সংস্কৃতি সংরক্ষণে সাংবিধানিক সংশোধন, ধর্ম অবমাননা বিরোধী আইন প্রণয়ন, শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা, কওমি মাদরাসার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কওমি মাদরাসার দান-অনুদান আয়করমুক্ত রাখা, শিক্ষা কমিশন ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডে কওমি আলেমদের অন্তর্ভুক্তি, অশ্লীলতা ও মাদকাসক্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন- কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা আলী আজম বি.বাড়িয়া, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ, মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজওয়ান রফিকী, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী।