চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) অথবা ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার ঈদে বেশির ভাগ নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। পরিবারের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেবেন তারা। একাধিক শীর্ষ নেতা ও এমপির সাঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় ঈদ করবেন। পরদিন নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও যাবেন তিনি। প্রতিবছরের মতো এবারও নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামে ঈদ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজ এলাকা কক্সবাজারে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিদুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঈদ করবেন ঢাকায়। মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের নিজ এলাকা দিনাজপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ঢাকায়, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরায়, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক সিলেটে, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে, খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কুমিল্লায়, বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জে, পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষীপুরে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের কুমিল্লায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটিতে, শিক্ষামন্ত্রী আনম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুরে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদীতে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম টাঙ্গাইলে, সড়ক, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ঢাকায় এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান টাঙ্গাইলে ঈদ করবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের অনেকেই ঢাকায় ঈদের নামায শেষে এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। আবার কেউ কেউ এলাকায় ঈদ করে ঢাকায় ফিরবেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাস গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মন্ত্রী পদমর্যাদার রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির ও মাহদী আমিনও ঢাকায় ঈদ করবেন। তবে হুমায়ুন কবিরের সিলেট যাওয়ারও কথা রয়েছে। এছাড়া প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুরে, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে, মো. শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জে, শামা ওবায়েদ ইসলাম ফরিদপুরে, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলে, ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়ে, মো. আমিনুল হক ঢাকায়, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন চট্টগ্রামে, হাবিবুর রশিদ হাবিব ও মো. রাজিব আহসান ঢাকায়, মো. আব্দুল বারী জয়পুরহাটে, মীর শাহে আলম বগুড়ায়, জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ঢাকায়, ইশরাক হোসেন ঢাকায়, ফারজানা শারমীন নাটোরে, শেখ ফরিদুল ইসলাম বাগেরহাটে, নুরুল হক নুর পটুয়াখালীতে, ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহে, এম ইকবাল হোসেইন ময়মনসিংহে, এম এ মুহিত সিরাজগঞ্জে, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর পিরোজপুরে, ববি হাজ্জাজ ঢাকায়, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম রাজবাড়ীতে ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বরগুনায়, হুইপ জি কে গউছ হবিগঞ্জে, রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনায়, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ঢাকায় ও শরীয়তপুরে, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে, আখতারুজ্জামান মিয়া দিনাজপুরে এবং এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান লক্ষ্মীপুরে ঈদ উদযাপনের কথা রয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, পরিবারের সদস্য ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সব সময় আমার ঈদ কাটে। এবারও তেমনটাই হবে। সকালে পারিবারিক মসজিদে ঈদের নামায পড়বো। মা-বাবার কবরসহ পরিবারের অন্যান্যদের কবর জিয়ারত করবো। এরপর এলাকার সাধারণ মানুষ আর দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়সহ আনন্দ ভাগাভাগি করবো।
জামায়াত নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন অর্জন করেছে এবং প্রথমবার জাতীয় সংসদে বিরোধীদল হিসেবে অংশ নিয়েছে। এবার শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই ঈদ উদযাপন করবেন নিজেদের নির্বাচনি এলাকায়। তবে, দলের আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করবেন। নামাযের পর তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। একই দিনে মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন জামায়াত আমীর। ওইদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি ও নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরও ঢাকায় ঈদ করবেন। মঙ্গলবার তথ্য নিশ্চিত করেছে জামায়াতের প্রচার বিভাগ। দলের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার নিজ গ্রামে, সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকৈড় নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে, অ্যাড. মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
এছাড়া, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন বগুড়ায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি সাতক্ষীরার নিজ গ্রামে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ঢাকায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নিজ গ্রামে, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন ঢাকায়, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে এবং ড. রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুর জেলার নিজ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
খেলাফত মজলিস: খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করবেন হবিগঞ্জ বানিয়াচং এড়ালিয়া ঈদগাহ মাঠে। তিনি এখানে ঈদ জামায়াতের ইমামতি করবেন। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের আদায় করবেন রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁও ঈদগাহ মাঠে। নায়েবে আমীরবৃন্দের মধ্যে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন খুলনা মহানগরীস্থ ইসলামপুর জামে মসজিদে ঈদ জামায়াতের ইমামতি করবেন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী রাজধানীর হাজারীবাগের কমরুদ্দিন শাহী জামে মসজিদে ঈদ জামায়াতের ইমামতি করবেন, হাফেজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ সিলেট ভার্থখোলা ঈদগাহ মাঠে ঈদ জামায়াতের ইমামতি করবেন, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ নামায আদায় করবেন পাবনা আটঘরিয়া চৌকিবাড়ী ঈদগাহ মাঠে, অধ্যাপক মাওলানা আবদুল কাদির সালেহ লন্ডনে ঈদের নামায আদায় করবেন, অধ্যাপক সিরাজুল হক নামায আদায় করবেন কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক নামায আদায় করবেন রাজধানীর বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট জামে মসজিদে, মুফতি আবদুল হামিদ জয়পুরহাট কলন্দপুর ঈদগাহ মাঠে ঈদ জামায়াতের ইমামতি করবেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন জাতীয় ঈদগাহে নামায আদায় করবেন।
ইসলামী আন্দোলন: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই ও দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করবেন ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাদরাসা মসজিদে। সকাল ৮ টায় বরিশালের অন্যতম বৃহৎ এই জামায়াতে পীর সাহেব চরমোনাই নামায পড়াবেন। দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ কদমতলীর জামেয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা মসজিদে ঈদের নামায আদায় করবেন। দলের যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ওমরায় থাকার কারণে মক্কায় হারামে নামায আদায় করে প্রবাসীদের সাথে মতবিনিময় করবেন। দলের যুগ্মমহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ভাটারা সাঈদনগর মাদ্রাসায় ঈদের জামায়াতের ইমামতি করবেন। দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বাইতুল ইবাদাত জামে মসজিদ, আদর্শবাগ, খিলগাঁও এ ঈদের নামায আদায় করবেন।