বর্জ্য অপসারণের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন নিয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকার দুই সিটি প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে বজ্য অপসারণে যেসব যন্ত্রপাতি দরকার তা আমদানি না করে দেশে বুয়েটের সহযোগিতায় করা যায় কিনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সে নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞদের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যারা কাজ করে তাদেরকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ঈদ বোনাস দিয়েছেন। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থানায় যেসব যন্ত্রপাতি দরকার তা আমদানি না করে দেশে বুয়েটের সহযোগিতায় করা যায় কিনা সে নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞদের। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের জন্য থোক বরাদ্দ এখনও পাইনি। রাজস্ব বাড়াতে চেষ্টা চলছে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, রাস্তা ঘাটের উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করবো। মশা নিধনে নানা কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। শুধু ওষুধে কাজ হবে না। খাল পরিষ্কার করছি। বর্ষার আগে মশা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করি।

বুয়েটের যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এহসান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অটোমেশন-পরিবহণ ব্যবস্থায় উন্নয়নে ইলেকট্রনিক থ্রি হুইলারে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। পরিবহন যন্ত্র আমদানির চেয়ে দেশে তৈরির কথা বলেছেন।

এদিকে আগামী পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করবেন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় এই কার্ড বিতরণ করতে যাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কৃষক কার্ড প্রণয়ন সংক্রান্ত সেলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইল সদরসহ মোট ১১টি উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথম ধাপে এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষী ও খামারিদের এ কার্ড দেওয়া হবে। এটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রণোদনা হিসেবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন।টাঙ্গাইল ছাড়া অন্যান্য উপজেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়ের কমলাপুর ও বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকূপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য পরিচিতি নিশ্চিত করা যাবে। পাশাপাশি কৃষি ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা, বীজ ও সার বিতরণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে। বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু; প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।