চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতবাস। 

সোমবার (২৩ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো অভিবাসীরা যাতে অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন বা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে না দাঁড়ান তা নিশ্চিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণ সুবিধা ব্যবহারের হার বেশি, সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ডিপার্টমেন্ট।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই স্থগিতাদেশের ফলে আমাদের যাচাই ও বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করার সময় মিলবে, যাতে সেগুলো আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। এই স্থগিতাদেশ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যার মধ্যে পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের ভিসাও অন্তর্ভুক্ত’।

এরআগে গত ১৪ জানুয়ারি ৭৫টি দেশের কনস্যুলার অফিসে নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, রাশিয়া, ব্রাজিল, পাকিস্তান, কুয়েত, থাইল্যান্ড, মিশর, ইরান, ইরাক, জর্দান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, বসনিয়া, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, বেলিজ, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, ডিআর কঙ্গো, ডোমিনিকা, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি,  কাজাখস্তান, কসোভো, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ পুনর্মূল্যায়ন করছে। ফলে এই ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত রাখা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ত্রাণ বা সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবেন এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”