অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, প্রত্যেক জাতির ইতিহাসে কিছু দিন থাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলাফলের দিক থেকে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু একটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়; বরং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তরুণরা বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায়কে সম্ভব করেছিল সেই ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়নের সুযোগ নিয়ে এসেছে এবারের নির্বাচন। তিনি সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সবাইকে গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দেয়ার আহবান জানান।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন- আমি সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাই—নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দিন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রথমেই গভীর সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি—এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল।
তিনি আরো বলেন, আজ আমি বিশেষভাবে কথা বলতে চাই আমাদের তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সঙ্গে। আপনারাই সেই প্রজন্ম, যারা গত ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও ভোট দিতে পারেননি। আপনারা বড় হয়েছেন এমন এক বাস্তবতায়, যেখানে ভোটের মুখোশ ছিল—কিন্তু ভোট ছিল না; ব্যালট ছিল—কিন্তু ভোটার ছিল না। এই দীর্ঘ সময়ের বঞ্চনা ও অবদমনের সবচেয়ে বড় মূল্য জাতিকে প্রতিদিন দিতে হয়েছে। তবু আপনারা আশা ছাড়েননি। অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। আন্দোলনে, প্রতিবাদে, চিন্তায় ও স্বপ্নে আপনারা একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা লালন করেছেন। আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসের গতিপথ বদলানোর সেই দিনটি এসেছে।
ড. ইউনূস বলেন, বিশেষ করে আমাদের নারীরা—মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সবকটি গণআন্দোলন, পরিবার থেকে রাষ্ট্র—সবখানেই শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীরাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা। নারীরাই এদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের শক্ত ভিত। ক্ষুদ্র ঋণ, কুটির শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এই শব্দগুলোর পেছনে আছে পরিবর্তনের গল্প, পরিবার ও সমাজে সাবলম্বী হবার গল্প।