সরকারী দল ও বিরোধী দল মিলিয়েই সংসদ। এখানে ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক করে হামে মৃত্যুবরণ করা শিশুর মায়ের কষ্ট দূর হবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, সংসদে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে। মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। এমন কোন কথা বলা যাবে না, এমন কোন কাজ করা যাবে না, যাতে সংসদ অকার্যকর হয়। যে কোন সমস্যা বিরোধী দলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে তিনি বলেন, যেসকল বিষয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে, আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সাথে বসব, আলোচনা করব, দেশের স্বার্থে আমরা সমাধান বের করব।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। এসময় সংসদে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পীকার মেজর অব, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনার মাধ্যমে পুরো সংসদকে আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে চাই। আসলে আমাদের দেশটা এখন অনেক পিছিয়ে আছে। আমাদের দেশে সঠিকভাবে ডাক্তার নেই। সেজন্যই আমরা ঠিক করেছি যে, আমরা জিডিপির একটি বড় অংশ শিক্ষা এবং আমাদের স্বাস্থ্য খাতে আমরা ব্যয় করব। এবং এই সংসদে আমার আগে বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য রেখেছেন। উনার পরে আমি বক্তব্য রাখছি। উনি যে কথাগুলো বলেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি যে কথাগুলো বলছি, নিশ্চয়ই সবাই বুঝতে পারছেন আমাদের লক্ষ্য এক। আমাদের উদ্দেশ্য এক। আমাদের গন্তব্য এক। লক্ষ্য কি? লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। গন্তব্য কি? গন্তব্য একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এটি সংসদ, জাতীয় সংসদ। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমরা এগ্রি করছি ডিজেগ্রিমেন্টের জন্য। এগ্রি টু ডিজেগ্রি মাননীয় স্পিকার। পৃথিবীর তাবত দেশ যারা গণতন্ত্রের চর্চা করে, প্রত্যেকটি পার্লামেন্টেই এটি একটি স্বীকৃত বিষয়। মাননীয় স্পিকার, ইয়েস, আজকে হয়তো জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি সেই ডিবেটে যাব না। কারণ একটু আগেই আমি বলেছি, আমাদেরও লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গন্তব্য হচ্ছে এই দেশ, দেশের জনগণ এবং একটি আত্মনির্ভরশীল সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আমি আবারও বিরোধীদলীয় নেতার সাথে একমত পোষণ করছি। আমরা গত প্রায় দেড় মাস ধরে আলোচনা করেছি এই সংসদে। হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছি। বিলের বিষয়ে কোনো কোনো বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, কোনো কোনো বিষয়ে হয়তো আমাদের দ্বিমত আছে। পরিষ্কারভাবে আমার দলের অবস্থান থেকে আমি বলতে চাই যে, যেসকল বিষয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে, আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সাথে বসব, আলোচনা করব, দেশের স্বার্থে আমরা সমাধান বের করব।

তিনি আরো বলেন, এখানে সকলেরই মনে আছে। রোজার সময় বিরোধীদলীয় নেতা আমাকে উনাদের ইফতার পার্টিতে দাওয়াত করেছিলেন। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমি গিয়েছিলাম, আমার সাথে আজকের হোম মিনিস্টারও ছিলেন। আমরা সেখানে উনাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবটি। ওটা উনাদের দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে উনারা সেটা গ্রহণ করেননি, সেটা উনাদের পলিসির ব্যাপার। কিন্তু আমরা উনাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে আমরা চাই যে ডেপুটি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার আমরা উনাদের কাছ থেকে চেয়েছিলাম মাননীয় স্পিকার। আজকে আবারও পরিষ্কারভাবে আমি বলতে চাই এই প্রস্তাবটি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ আপনাদের কাছে আমাদের এই প্রস্তাবটি এখনো ওপেন আছে। আমরা এখনো এই প্রস্তাবটি ওপেন রেখেছি। এই প্রস্তাবটি দেওয়ার মাধ্যমে আবারও আমরা আমাদের পরিষ্কার ইনটেনশন বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যেভাবে ঠিক বিরোধী দলীয় নেতা সেদিন বলেছিলেন যে আসুন আমরা দুই দল মিলে যদি একসাথে একটি কমিটি গঠন করি যেখানে জ্বালানির বিষয়ে কোনো সমস্যা থেকে থাকে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারব। উনারা যেরকম উনাদের ইনটেনশন দেখিয়েছেন, আমরাও সেই সময়ে আমাদের ইনটেনশন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি। একইভাবে এই সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে আমি উনার বাসায় গিয়েছিলাম। উনার বাসায় গিয়ে দেশ পরিচালনা করার জন্য উনাদের সহযোগিতা আমি চেয়ে এসেছিলাম। একইভাবে আমি নাহিদ ইসলামেরও বাসায় গিয়েছিলাম। এনসিপি’র কাছে আমি বলেছি, দেশ পরিচালনায় আপনাদেরও সহযোগিতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এবং বিরোধী দলীয় নেতা উভয়ই আমরা বলেছি যে সমগ্র বাংলাদেশ এই সংসদ তাকিয়ে আছে। সমগ্র বাংলাদেশ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। তাকিয়ে আছে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের জন্য। মাননীয় স্পিকার, এবং সেকারণেই কিন্তু সেকারণেই আমরা মনে করি এটি হয়তো বোঝার ভুল হতে পারে বা দেখার ভুল হতে পারে। হতেই পারে মানুষ মাত্র ভুল হতেই পারে। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় স্পিকার, আমি বলেছি, আমি বলব এবং বলছি ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও বলব এখনো বর্তমানেও বলছি আমরা চাই আমরা একসাথে কাজ করব।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র চলতে শুরু করেছিল বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি মাননীয় স্পিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে আমরা সকলেই যদি গিয়ে একটি সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করি যে তুমি কি চাও? আমি বিশ্বাস করি একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমরা শান্তি চাই। একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমরা নিরাপদ রাস্তা চাই। একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমি আমার লেখাপড়া শেষ করে আমি একটি কর্মসংস্থান চাই। একজন গৃহিণী বা একজন নারী বলবে আমি নিরাপদে রাস্তায় যেতে চাই। আজকে আমরা ইতিহাস নিয়ে হয়তো অনেক ডিবেট করেছি। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, আমাদের এই ইতিহাসের ডিবেট সেই হামে অসুস্থ বাচ্চার মায়ের মন কি শান্ত করতে পারবে? পারবে না।

তিনি বলেন, যে ছেলেটি ইউনিভার্সিটি পাস করে চাকরি সংস্থানের জন্য মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাকে কি আমরা আমাদের এই যে ঐতিহাসিক ডিবেট, কে আমরা কি করেছি অতীতে সেই ডিবেট দিয়ে তাকে কি আমরা কিছু বুঝতে পারব? পারব না। আমি একটু আগেই বলেছি যে বোরো ধানের এই যে যেখানে অতিবৃষ্টি হয়েছে, সেখানে যে ফসল কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কাছে যদি আমরা আমাদের এই মহান সংসদের মূল্যবান ঐতিহাসিক ডিবেট উপস্থাপন করি সে যে ফসলহানির যে কষ্ট, সেই কষ্ট কি তার লাঘব করা সম্ভব হবে? যদি তার জন্য আমরা কোনো একটি ব্যবস্থা করতে না পারি যে আগামী তিন মাস সে কি খাবে? হবে না। তাকে আমার খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ওই বেকার যুবকটির জন্য আমার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য তার মায়ের সান্ত¡নার জন্য আমাকে ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। আমার কাছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে হয় খুব সম্ভবত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। এবং হবেই হবে আমাকে সেই দিকেই এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি আরো বলেন, এই যে চেয়ারটি আপনি দেখছেন যেই চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার সামনে মাননীয় স্পিকার, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম, আসলে মাননীয় স্পিকার মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় যে আগুনের তপ্ত হিট আসছে। আমি যা ফিল করি আমি আপনাদেরকে তাই বলছি। আমি আপনাদেরকে তাই বলছি। এই চেয়ারের থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপনার সামনে বক্তব্যে আমি হয়তো অনেক পপুলার কথা বলতে পারতাম যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো মাননীয় স্পিকার। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে যে আমি সবসময় পপুলার কথা বলতে পারি না। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমারও তো ইচ্ছে করে পপুলার কথা বলতে যাতে জোরে জোরে তালি পাই। কিন্তু এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, 'ঘড়, ুড়ঁ যধাব ঃড় ঃধশব ঃযব ৎরমযঃ ফবপরংরড়হ, হড়ঃ ঃযব ঢ়ড়ঢ়ঁষধৎ ফবপরংরড়হ'।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশকে যদি সামনে নিয়ে যেতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের উভয় পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে। হ্যাঁ, বাংলাদেশে আইটি শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে হয়তো আমাদের মধ্যে ডিবেট হতে পারে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের আইটি শিল্পের বহিঃপ্রকাশ হতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো ডিবেট নেই । সেজন্যই আসুন আজকে, আজকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে যে আমরা অন্য দেশের উদাহরণ দেবো না বরং আমাদের দেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশ যখন স্বাধীন হয়েছে, এই মুহূর্তে আমরা বিভিন্ন বিবেচনায় আমাদের দেশকে যদি একটি স্ট্যান্ডার্ডে ধরি আমাদের মতন অনেকগুলো দেশ ছিল যারা হয়তো ১৯৭২-৭৩ সালে স্বাধীন হয়েছে তারা আমাদের থেকে এগিয়ে গিয়েছে। আমরা পারিনি কেন? বিকজ বিভিন্নভাবে এই দেশকে একটু আগেই যেটি বলেছি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত যদি হয়, গণতন্ত্র প্রতিবার বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছু বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই আমি বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের কাছে আহ্বান জানাতে চাই আসুন আমরা ডিবেট করবো, আমরা বিতর্ক করবো, আমরা আলাপ করবো, আমরা আলোচনা করবো, আমরা বসবো, কথা বলবো, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, অতীতে আমরা দেখেছি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ১৭৩ দিন হরতাল ডাকা হয়েছিল। হ্যাঁ সেই সরকার হয়তোবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সরকার হয়তো পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকেনি, ক্ষমতায় আসেনি। কিন্তুকেউ একজন সদস্য সেটি আমার দলের সদস্য হোক সেটি বিরোধীদলীয় সদস্যরা হোক, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি? এই ১৭৩ দিনের হরতালে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেই ক্ষতির মাশুল আজও আমাদেরকে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ।

তিনি বলেন, এই সংসদ মানে এই সংসদের সফলতা মানে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এবং মাননীয় স্পিকার এটি সংসদের রীতি, সংসদের নীতি মাননীয় স্পিকার একটি দল সরকারে থাকবে একটি দল বিরোধীদলে থাকবে। এই সেজন্যই আমি বারে বারে বলছি এই সংসদের দ্বারা গঠিত সরকার, এই সরকারের টিকে থাকা, এই সরকারের সফলতা মানেই কিন্তু সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া। সংসদ এমন একটি সংসদ, যা বাংলাদেশের অতীতে কোনোদিন হয়নি। বর্তমানে, বর্তমানে সংসদ বর্তমান এবং ভবিষ্যতে হবে যেটি, সেটি হলো উভয় পক্ষ দেশের স্বার্থে আমরা একসাথে কাজ করব।

তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা উভয় পক্ষ আসুন, কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। কারণ, আপনি এবং আমি, আপনারা এবং আমরা, আমরা মিলেই কিন্তু পূর্ণ সংসদ। আমরা মিলেই কিন্তু পূর্ণ সংসদ। কাজেই আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে এবং আমরা যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা কেউই এই সংসদের কোনো একজন সদস্য, আমরা স্বয়নে স্বপনে কেউ ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, বর্তমান বাংলাদেশ ৭১-এর পরবর্তী বাংলাদেশ যেরকম শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে ছিল, বর্তমান বাংলাদেশ এবং বর্তমান সংসদ একইভাবে হাজারো শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, আমার সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই যে আমরা সবসময় সকল সময় প্রস্তুত আছি বিরোধী দলের সদস্যের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থে বাংলাদেশের মানুষের সাথে যেকোনো আলাপ আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য। এবং আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই, আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আমরা উভয়ে সকলে একসাথে এই দেশকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।

তিনি সংসদ অধিবেশন সফলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধণ্যবাদ জানান।

তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান থাকবে আসুন আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব দিয়ে, যে প্রত্যাশা, যে আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে পাঠিয়েছে এখানে, আসুন আমরা সেই দায়িত্বের সেই কর্তব্যের সর্বোচ্চ সম্মান আমরা প্রদান করি। যার মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করব। কারণ দেশ এবং জনগণ থাকলেই আমরা আছি। দেশ এবং জনগণের সম্মান যদি আমরা না করি তাহলে আমাদের রাজনীতি হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেই জন্যই আমাদের সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রথম হচ্ছে এই দেশের জনগণ এবং এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।