দেশের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা উত্তরা গণভবনকে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে উত্তরা গণভবন। দীর্ঘদিনের অবহেলা থেকে ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো সংস্কার, নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও গতিশীল করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাটোরের উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হলো উত্তরা গণভবনকে তৈরি রাখা। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিটি সরকারের সময় এখানে অন্তত একটি করে সভা অনুষ্ঠিত হয়। বহু বছর অবহেলায় পড়ে থাকা এই ঐতিহাসিক ভবনকে আমরা নতুনভাবে প্রস্তুত করেছি যেন রাষ্ট্রীয় সভা, নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।”
ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক সক্রিয়তা বাড়ছে উত্তরা গণভবন শুধু একটি সরকারি স্থাপনা নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রশাসনিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিভিন্ন সরকারের সময়ে এখানে গুরুত্বপূর্ণ সভা, পর্যালোচনা বৈঠক, নীতিনির্ধারণী আলোচনাসহ নানা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকার কারণে ভবনের অনেক জায়গায় জরাজীর্ণতা দেখা দিয়েছিল।
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার সেই অবহেলা কাটিয়ে ভবনটিকে পুনরায় রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, “গণভবনের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবর্ধন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অতিথির আবাসিক কক্ষ, সভাকক্ষের উন্নয়ন—সবকিছুতেই নতুনভাবে কাজ করেছি। ভবিষ্যতে আরও কিছু উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হবে।”
চিনি আমদানিতে বিরতি—দেশীয় চিনিকলকে টিকিয়ে রাখতেই সিদ্ধান্ত
শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান তাঁর বক্তব্যে দেশের চিনি উৎপাদন ও বাজার স্থিতিশীলতার বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রচুর পরিমাণে চিনি মজুত রয়েছে। তাই বিদেশ থেকে চিনি আমদানির প্রয়োজন নেই।
উপদেষ্টা বলেন, “এখন বিদেশ থেকে চিনি আমদানি বন্ধ। আমাদের চিনিকলগুলোতে উৎপাদিত চিনি রয়েছে—সেগুলো আগে বিক্রি হবে। টিসিবির মাধ্যমে চিনিগুলো সরবরাহ করা হচ্ছে যাতে বাজারের চাহিদা মেটানো যায় এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য দামে চিনি কিনতে পারেন।”
তিনি আরও বলেন, দেশের চিনিকলগুলোকে টেকসই করতে হলে শুধু চিনি উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না—পরিবর্তে উৎপাদন ব্যবস্থায় বহুমুখীকরণ আনতে হবে।
“চিনিকলগুলোতে লাভের মুখ দেখতে হলে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি আরও কিছু পণ্য উৎপাদন করতে হবে। বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আধুনিকায়ন করতে হবে,”—যোগ করেন তিনি।
চিনিশিল্পের সামনে সংকট—সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা
বাংলাদেশের সরকারি চিনিকলগুলো বিগত কয়েক বছরে লোকসানে পড়েছে। আখ সরবরাহ কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা এর অন্যতম কারণ।
শিল্প মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে চিনিকল সংস্কার, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ, আখচাষিদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং পণ্য বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা নিয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, ভবিষ্যতে চিনিকলে মোলাসেস, ইথানল, পশুখাদ্যসহ নানা উপপণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ আরও প্রসারিত করা হবে। এতে চিনিশিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উত্তরা গণভবনে নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধনে নতুন ব্যবস্থা
পরিদর্শনকালে শিল্প উপদেষ্টা গণভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। নিরাপত্তা হালনাগাদ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, আলোকসজ্জা, বাগান উন্নয়নসহ বেশ কিছু কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে এখানে পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হয়।
পরিদর্শনে তিনি গণভবনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং উন্নয়নকাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে শিল্প উপদেষ্টার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওহাবসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় তারা গণভবনের অগ্রগতি, রক্ষণাবেক্ষণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা উত্তরা গণভবন এখন শুধু সরকারি স্থাপনা নয়—নাটোরবাসীর জন্য এটি একটি গৌরবের প্রতীক। স্থানীয়রা আশা করছেন, বাড়তি প্রশাসনিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা, পর্যটন সম্ভাবনা এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাটির উন্নয়ন নাটোরের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।