রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র মাহে রমজানের বিদায়ী ঘণ্টা বাজছে। সিয়াম সাধনার মাস বিদায়ের অন্তিম লগ্নে আজ সারা দেশে পালিত হয়েছে পবিত্র ‘জুমাতুল বিদা’। বৃষ্টির বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। নামাজ শেষে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় ব্যাকুল ইবাদতকারীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে মসজিদ প্রাঙ্গণ।

বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ঢল

আজ (২০ মার্চ) জুমাতুল বিদা উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজে অংশ নেন হাজার হাজার মুসল্লি। দুপুর ১২টা থেকেই মুসল্লিদের আনাগোনা শুরু হয়। আজানের আগেই মসজিদের মূল অংশ ও বারান্দা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বৃষ্টির কারণে বাইরের চত্বরে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও ভেতরের প্রতিটি তলা ছিল মুসল্লিতে ঠাসা। বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

খুতবায় আত্মশুদ্ধির ডাক

নামাজের আগে খুতবায় খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক বলেন, “মাহে রমজান আমাদের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও মানবতার শিক্ষা দেয়। এই পবিত্র মাসের শিক্ষা যেন কেবল এক মাস নয়, বরং সারা বছর আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হয়, সেই চেষ্টা করতে হবে। রমজানের শেষ মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করার আহ্বান জানান তিনি।”

মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে খতিব বলেন, “হে মাওলা! আপনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে হেফাজত করুন। বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দূর করে শান্তি ও সম্প্রীতি বাড়িয়ে দিন। আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদের সবাইকে ঈমান ও আমলের সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করুন।”

মুসল্লিরা দুই হাত তুলে আমিন আমিন ধ্বনিতে আল্লাহর দরবারে নিজ নিজ গুনাহ মাফ এবং পরিবার ও প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় অনেক মুসল্লিকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।

দেশজুড়ে জুমাতুল বিদা পালন

রাজধানীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ, খুলনার টাউন জামে মসজিদ, সিলেটের শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদসহ দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের বড় মসজিদগুলোতে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। নামাজ শেষে অনেক মুসল্লিকে সাধ্যমতো দান-সদকা করতে দেখা যায়।

তাৎপর্য ও ফজিলত

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রমজানের শেষ জুমা বা জুমাতুল বিদা অত্যন্ত মহিমান্বিত। এটি একদিকে যেমন সাপ্তাহিক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ দিন, অন্যদিকে রমজান বিদায়ের বার্তা নিয়ে আসে। মুমিন মুসলমানরা এই দিনে আগামী বছরের রমজান পাওয়ার আশা এবং বিগত দিনের ভুল-ত্রুটির ক্ষমা চেয়ে ইবাদতে মগ্ন থাকেন।