প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামের (চট্টগ্রাম-১৬) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। ভোটার তালিকা প্রস্তুত, ভোটের সামগ্রী সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও সংস্কার এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে তফসিল ঘোষণা করতে হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক-প্রস্তুতি হিসেবে ন্যূনতম ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের (পাবনা-৫) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কোনো নির্বাচনেই আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মন্ত্রী বলেন, দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য তিন হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ থেকে ২০২৪ মেয়াদে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে কেনা ওই প্রকল্পের অডিট আপত্তি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। অব্যবহৃত ইভিএমগুলো এখন বিভিন্ন গোডাউন ও বিএমটিএফ-এ সংরক্ষিত আছে।

ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করেছে। প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগ ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলা; ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর নিয়ে গঠিত হবে। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে এই বিভাগ গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সংসদকে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন প্রাক-বর্ষা ও বর্ষাকালীন সময়ের জন্য আলাদাভাবে কিউলেক্স ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অন্যতম। উত্তর সিটিতে সকালে লার্ভিসাইডিং এবং সন্ধ্যায় ফগিং করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে খাল-বিল ও ড্রেন পরিষ্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছয় হাজার বিঘা কচুরিপানা পূর্ণ জলাশয় পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ‘শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার’ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ‘অপারেশন ক্লিন হোম’ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবহৃত রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি অধিকতর কার্যকর জৈব কীটনাশক বিটিআই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে এখন ক্রয়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং কীটনাশকের মান যাচাইয়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সেখানে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি অঞ্চলে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত মনিটরিং টিম ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে। জনবহুল এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট, জিয়া সরণি ও কাজলা খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে।

জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য দক্ষিণ সিটি এরইমধ্যে ছয়টি পোর্টেবল পাম্প ক্রয় করেছে বলেও সংসদে জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে এবং নতুন আরও একটি আউটলেট নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ নর্দমা বা আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আউটলেট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা লাঘব এবং মশাবাহিত রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী জানান।

ইভিএম প্রকল্পের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত চলছে

ইভিএম প্রকল্পে অডিট অধিদপ্তর হতে বিভিন্ন অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি এবং প্রকল্পটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীন তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ¯’ানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মোঃ শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রী এ তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সোমবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতায় ১.৫০ লক্ষক্ষ(এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) ইভিএম ক্রয়ের নিমিত্ত ৩৮২৫.৩৪ (তিন হাজার আটশত পঁচিশ দশমিক চৌত্রিশ) কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০১৮ হতে জুন ২০২৪ মেয়াদে একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। উল্লেখ্য, ইভিএমগুলো অর্পিত ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। প্রকল্পটি গত জুন ২০২৪ সালে সমাপ্ত হয়েছে এবং প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন (পিসিআর) গত ১৩ মে ২০২৫ তারিখে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে প্রেরণ করা হলেও অদ্যাবধি মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, ইভিএম প্রকল্পে অডিট অধিদপ্তর হতে বিভিন্ন অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। প্রকল্পটির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীন তদন্ত চলমান রয়ে।ে

মন্ত্রীলেন, গত ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত মাননীয় নির্বাচন কমিশন এর ০৮/২০২৫তম সভায় জাতীয় ও ¯’ানীয় পর্যায়ের কোন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে ইভিএমগুলো বিভিন্ন গোডাউন, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেইজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।