কারাবন্দিদের জন্য ভিডিও কলের মাধ্যমে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দিরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত নম্বরে সাত দিন পর পর একবার ফোন করতে পারেন, যেখানে ১০ টাকায় ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ থাকে। এবার একই প্রক্রিয়ায় ভিডিও কলের সুবিধাও যুক্ত হতে যাচ্ছে।
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই দেশের সব কারাগারে আইপি ফোন স্থাপন করা হবে। এ ব্যবস্থা চালু হলে বন্দিদের স্বজনদের সাক্ষাতে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তা কমে আসবে বলে আশা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারা দেশে বিভিন্ন কারাগারে থাকা বন্দিদের দেখতে যান স্বজনরা। অনেক সময় বন্দির স্ত্রী একা আসেন।
কখনো কখনো সন্তানদের নিয়ে আসেন। এ ছাড়া বাবা-মা, ভাই-বোনরাও আসেন। এতে খরচ অনেক সময় অপচয় হয়। কারা কর্তৃপক্ষের হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিবার সাক্ষাতে জনপ্রতি বন্দির স্বজনদের গড়ে প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়।
এই টাকা জোগাড় করা সব স্বজনের পক্ষে সম্ভব হয় না। বেশির ভাগই ধারদেনা করে সাক্ষাতে আসেন। এই দুর্ভোগ কাটাতে ভিডিও কলে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বন্দিরা নিজ নিজ পিসি থেকে ১৫ টাকা খরচে পরিবারের সঙ্গে সপ্তাহে ১০ মিনিট ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
কয়েকটি কারাগারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একসময় ভাবা হতো কারাগারে টেলিফোন স্থাপন করা সম্ভব নয়।
এর পেছনে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা সামনে আনা হতো। কিন্তু ঠিকই ফোন স্থাপন সম্ভব হয়েছে এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। সুতরাং আইপি ফোন স্থাপন করে বন্দিদের যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিক করা তেমন কোনো কঠিন কাজ নয়। কারাগারে বন্দিদের সব স্বজন আসতে পারেন না। ভিডিও কলে কারাবন্দিরা সবাইকে দেখতে পারবে। এতে বন্দিদের বিষণ্ণতা কিছুটা হলেও কমবে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘কারাগারকে আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় বন্দিদের ভিডিও কলে কথা বলার বিষয়েও অধিদপ্তর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে বন্দিদের কথা বলার কার্যক্রম সফল হওয়ায় আইপি ফোনের মাধ্যমে ভিডিও কলের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।’