ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সাইবার জগতে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে সুপরিকল্পিত সাইবার হামলা ও ‘ডিপ ফেইক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আজ ১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ভয়াবহ ডিজিটাল ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
আমীরে জামায়াতের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সাইবার হামলা
বিবৃতিতে জানানো হয়, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) হ্যান্ডেলসহ দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে অত্যন্ত সমন্বিতভাবে সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা সাময়িকভাবে আমীরে জামায়াতের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় এবং এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তাঁর নামে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট প্রচার করে।
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, “আমাদের সাইবার টিমের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি, উক্ত পোস্টটি আমীরে জামায়াতের কোনো বক্তব্য বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর।”
আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি: মিথ্যা তথ্য ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ
নির্বাচনের আগমুহূর্তে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা তৃতীয় কোনো শক্তির এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের হুশিয়ারি দিয়ে বলেন— “মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি করা এবং বিকৃত কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা আইনগতভাবে দণ্ডনীয় এবং নৈতিকভাবে নিন্দনীয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অপপ্রচার কেবল কোনো ব্যক্তি বা দলকে নয়, বরং সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি সাধারণ জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “ভুয়া খবর ও জাল উদ্ধৃতির বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন। শুধু অফিসিয়াল ও বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করুন; যাচাই ছাড়া কোনো কনটেন্ট শেয়ার করবেন না।”