বিগত ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ কথা জানান।
এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বুধবার মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। আহমেদ আযম খান বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটির তদন্ত/শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অমুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হলে গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়। অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত/শুনানি করা জামুকার একটি নিয়মিত কাজ এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল কর্তৃক যাচাই-বাছাই/তদন্ত করে কাউন্সিলের সভার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে আগস্ট ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৮১ জন ব্যক্তির গেজেট/লাল মুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকা এ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাতিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬৪৭৬ জনের গেজেট/লাল মুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে।
ফ্লাই দুবাই পুনরায় সিলেট থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে
ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্স পুনরায় সিলেট থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিল উত্থাপিত হয়। সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী প্রশ্ন রেখে বলেন, সিলেট-৬ এর অধিকাংশ জনগণ বিদেশে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। সিলেটবাসীর আকাশপথে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও বাংলাদেশের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়া অন্য কোনো দেশের বিমান ওঠানামা করতে দেখা যায় না। তাই সিলেটের রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও বিদেশি পর্যটকদের হয়রানি লাঘব এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্সের বিমান নামার ব্যবস্থা করা হবে কিনা?
জবাবে মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডন, দুবাই, আবুধাবি, মাসকট, জেদ্দা, শারজাহ ও দোহা রুটে সপ্তাহে ২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। বর্তমানে বিমান ছাড়া অন্য কোনো এয়ারলাইন্স সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে না। অতীতে ফ্লাই দুবাই এয়ারলাইন্স (মার্চ ২০১৭ হতে সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে) সিলেট থেকে দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। কিন্তু পরে তারা বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে। বর্তমানে তারা পুনরায় সিলেট থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেন, এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ বিবেচনায় কোনো একটি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা অথবা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহী সব এয়ারলাইন্সকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনুরূপ প্রায় সব সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান আছে। ফলে সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলির জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।