পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার পর শনিবার দেশজুড়ে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী জাতীয় ঈদগাহে এবারের ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এরইমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত ঈদগাহ।

দীর্ঘ ৩৬ বছর পর প্রথমবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। প্রধান জামাতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, কূটনীতিক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা।

শতাধিক কর্মী দিনরাত পরিশ্রম করে জাতীয় ঈদগাহ নামাজের উপযোগী করেছেন। প্রটোকল অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ প্রায় ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত এলাকা রাখা হয়েছে। যার মধ্যে ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারী ভিআইপি সদস্য রয়েছেন। এছাড়া সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং ৩ হাজার ৫০০ নারীর আলাদা নামাজের স্থান ও পর্দার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জাতীয় ঈদগাহে সর্বমোট ১২১টি কাতার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৫টি বড় আকারের ও ৫৬টি ছোট আকারের কাতার রাখা হয়েছে।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। তবে প্রতিবারের মতো এবারও আশপাশের খোলা জায়গা ও সংলগ্ন সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের জামাতে দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করবেন।

ডিএসসিসিরে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, ঈদগাহ ময়দানে ৩ হাজার ৫০০ নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথসহ ওজু ও নামাজের জন্য রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত ব্যবস্থা। এছাড়া মুসল্লিদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকবে। প্রবেশের সময় গেট সীমিত থাকলেও নামাজ শেষে মুসল্লিদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্থান নিশ্চিত করতে সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হবে।

আবদুস সালাম জানান, কোনো কারণে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে তিনি মুসল্লিদের নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে ঈদগাহে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।