# স্পীকার-ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন
# ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন
# স্পীকারের শূন্য আসন নিয়ে বৈঠক শুরু
# শোক প্রস্তাব, রাষ্ট্রপতির ভাষণ
দীর্ঘ সতের বছর ফ্যাসিবাদি শাসনের পর গণতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ। চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। আজ এ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। বেলা ১১টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হবে। তারপর স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন, শোকপ্রস্তাব উত্থাপন, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নির্বাচন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে আজকের অধিবেশন মুলতবি হতে পারে। আর রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করে প্রথম দিনই সংসদ উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
সংসদ সূত্রে জানা গেছে, আজকে অধিবেশন শুরু হয়ে রোববার পর্যন্ত মুলতবি হবে। আবার রোববারের পর ২৯ মার্চ সংসদের বৈঠক বসবে। আজকে স্পীকার নির্বাচনের জন্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে স্পীকারের মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে তারা এখনো নাম প্রকাশ করেনি। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ দায়িত্ব দিয়েছে সরকারি দল। আর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পীকার নির্বাচনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়েও এখনো কোন নাম প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে বিরোধী দলের নেতা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জুলাই সনদেই আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন। আমরা খ-িতভাবে এটা চাচ্ছি না, আমরা চাই প্যাকেজ, আমরা চাই পিস মিল; পুরোটাই সেখানে গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হোক এবং এর ভিত্তিতে আমরা যেন আমাদের ন্যায্য দায়িত্ব পালন করতে পারি।’
প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘সরকার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কথা বলেছে। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা চাই, জুলাই সনদের সংস্কারের প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। এর আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, আমরা ততটুকু চাই, এর বেশি চাই না।’
জানা গেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রারম্ভিক বা স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে এ অধিবেশনটি শুরু হবে। অধিবেশনটির সূচনা হবে ‘স্পিকারের শূন্য আসন নিয়ে’। নিজের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন কোনো একজন সংসদ সদস্যকে অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্ব করার আহ্বান জানাবেন এবং সেই সভাপতির সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধান ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকারের নতুন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা। এর আগে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছিলেন শামসুল হক টুকু। কিন্তু ওই বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সংসদের স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার মামলার আসামী হয়ে এখন কারাগারে।
সরকারি দলের সভায় বলা হয়েছে, অধিবেশনের প্রারম্ভিক সভাপতি এবং নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারÑÑ এসব কিছুই চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচন হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। সিদ্ধান্ত তিনি দেবেন।
চিপ হুইপ জানান, স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতে একজন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সদস্য (যার নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন।
চিপ হুইপ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ বৃহস্পতিবার সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এগুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য বৃহস্পতিবারের বৈঠকে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সে কমিটিতে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যরাও থাকবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে চিপ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তারা কোনো ‘পজেটিভ রেসপন্স’ পাননি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রথম দিন সংসদের সব কার্যক্রমের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন বলেও জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী প্রারম্ভিক স্বাগত বক্তব্য দেবেন। এরপর কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটি তিনি প্রস্তাব করবেন। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এরপর পুনরায় অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার প্রথমে সভাপতিম-লীর প্যানেল ঘোষণা করবেন।
অধিবেশনের প্রথম দিনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। মরহুম বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও আলোচনা করা হবে। আইনমন্ত্রী সংসদে প্রয়োজনীয় অর্ডিনেন্স বা অধ্যাদেশগুলো পেশ করবেন। কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ (বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটি) সংসদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটি এদিন গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি সংসদে তার দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। এরপর অধিবেশন মুলতবি করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কার্যপ্রণালীবিধিতে যা আছে
সংসদ পরিচালনার কার্যপ্রণালী বিধিতে স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের নির্বাচন এবং সভাপতিম-লীর মনোনয়ন সর্ম্পকে ৮ ধারায় বলা হয়েছে, (১) কোন সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে, সংসদ নি¤œলিখিত বিধিসমূহ অনুযায়ী স্পীকার নির্বাচনের কাজে অগ্রসর হইবেন। (২) নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ের অন্যূন এক ঘণ্টা পূর্বে যে কোন সদস্য সচিবকে সম্বোধন করিয়া লিখিতভাবে এই মর্মে একটি প্রস্তাবের নোটিশ দিতে পারিবেন যে, স্পীকার হিসাবে অপর কোন সদস্যকে নির্বাচিত করা হউক। এইরূপ নোটিশ তৃতীয় একজন সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হইবে এবং প্রস্তাবিত সদস্যের এই মর্মে একটি বিবৃতিও এই নোটিশের সহিত সংলগ্ন থাকিবে যে, নির্বাচিত হইলে তিনি স্পীকাররূপে কাজ করিতে সম্মত আছেন। তবে শর্ত থাকে যে, কোন সদস্য নিজের নাম প্রস্তাব করিবেন না বা তাহার নাম প্রস্তাব করা হইলে তিনি নিজে তাহা সমর্থন করিবেন না, বা তিনি একাধিক নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করিবেন না ঃ আরও শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি তাহার নিজের নির্বাচনকালে সভাপতিত্ব করিবেন না। (৩) দিনের কার্যসূচীতে যে সদস্যের নাম প্রস্তাব রহিয়াছে, আহূত হইলে তিনি প্রস্তাবটি উত্থাপন বা প্রত্যাহার করিতে পারিবেন, এবং কেবল এই বিষয়ের মধ্যেই তিনি তাহার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখিবেন। (৪) যথাযথভাবে উত্থাপিত ও সমর্থিত প্রস্তাবসমূহকে উত্থাপিত হইবার ক্রমানুসারে ভোটে দেওয়া হইবে এবং প্রয়োজনবোধে বিভক্তি-ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে; কোন প্রস্তাব গৃহীত হইয়া গেলে সভাপতি অবশিষ্ট প্রস্তাবসমূহকে ভোটে না দিয়া ঘোষণা করিবেন যে, গৃহীত প্রস্তাবে উল্লিখিত সদস্য স্পীকার নির্বাচিত হইয়াছেন। (৫) এইরূপে নির্বাচিত ব্যক্তি সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে প্রদত্ত সংসদের স্পীকারের জন্য নির্ধারিত ফরমে শপথ গ্রহণ করিবেন বা ঘোষণা করিবেন এবং উহাতে স্বাক্ষর করিবেন।
ধারা ৯ তে ডেপুটি স্পীকার নির্বাচনের পদ্ধতি সর্ম্পকে বলা হয়েছে, স্পীকার নির্বাচনের জন্য ৮ বিধিতে প্রদত্ত পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় রদবদলসহ, ডেপুটি স্পীকার নির্বাচনের জন্যও প্রযোজ্য হইবে।
ধারা ১০। স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের শূন্য পদ পূরণ - স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকাররের পদ শূন্য হইলে তাহা পূরণের জন্য সংসদ অধিবেশনরত থাকিলে সাত দিনের মধ্যে কিংবা অধিবেশনরত না থাকিলে পরবর্তী প্রথম বৈঠকে ক্ষেত্রমত ৮ বা ৯ বিধি মোতাবেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।
ধারা ১১। স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকারের পদত্যাগ - স্পীকার বা ডেপুটি স্পীকার পদত্যাগ করিলে এই মর্মে রাষ্ট্রপতির নিকট হইতে লিখিতপত্র প্রাপ্তির পর সচিব অবিলম্বে ঐ পদত্যাগ গেজেটে প্রকাশ করাইবেন, এবং সংসদ অধিবেশনরত থাকিলে তাহা সদস্যদের মধ্যে প্রচারও করিবেন।
ধারা ১২। সভাপতিম-লী ও অস্থায়ী সভাপতি - (১) প্রত্যেক অধিবেশনের সূচনায় স্পীকার সংসদ-সদস্যদের মধ্য হইতে অনধিক পাঁচজনের একটি সভাপতিম-লী মনোনয়ন করিবেন এবং তাঁহাদের নাম প্রাধান্য অনুসারে সাজাইবেন ; স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকারের অনুপস্থিতিতে কোন বৈঠকে উপস্থিত সভাপতিম-লীর মধ্যে তালিকায় যাঁহার নাম শীর্ষে, তিনি সভাপতির আসন গ্রহণ করিবেন। (২) যদি কোন সময় সংসদের কোন বৈঠকে স্পীকার, ডেপুটি স্পীকার বা সভাপতিম-লীর সদস্যদের মধ্যে কেহই উপস্থিত না থাকেন, তাহা হইলে সচিব তাহা সংসদকে জানাইবেন এবং সংসদ একটি প্রস্তাবের মাধ্যমের সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে সভাপতিত্ব করিবার জন্য নির্বাচিত করিবেন।
ধারা: ১৩। সভাপতির ক্ষমতা - সভাপতিত্বকালে স্পীকারের যে সকল ক্ষমতা থাকিবে, সংবিধান বা এই বিধিসমূহের অধীন সংসদের কোন বৈঠকে সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পীকার বা অন্য ব্যক্তিরও সেই সকল ক্ষমতা থাকিবে এবং সংসদের সভাপতি হিসাবে স্পীকার সম্পর্কে এই বিধিসমূহে যে সকল উল্লেখ রহিয়াছে, তাহা অন্য কোন সভাপতির ক্ষেত্রেও উল্লেখ বলিয়া গণ্য হইবে।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী সর্ম্পকে ধারা ৩৩ এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করিবেন, এই মর্মে তাহার নিকট হইতে লিখিত পত্র প্রাপ্তির পর স্পীকার রাষ্টপতি কর্তৃক নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় উল্লেখপূর্বক ঐ তারিখের দিনের কার্যসূচীতে “রাষ্ট্রপতির ভাষণ” এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
ধারা: ৩৪। ভাষণ আলোচনার সময় বরাদ্দ - (১) স্পীকার সংসদ-নেতার সহিত পরামর্শক্রমে সংবিধারে ৭৩ অনুচ্ছেদের অধীন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংসদে প্রদত্ত ভাষণে উল্লিখিত বিষয়সমূহের আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দ করিবেন। (২) অনুরূপ দিন বা দিনসমূহের বা দিনের অংশবিশেষে কোন সদস্য কর্তৃক উত্থাপিত এবং অন্য একজন সদস্য কর্তৃক সমর্থিত একটি ধন্যবাদ প্রস্তাবের মাধ্যমে সংসদ উক্ত ভাষণে উলি−খিত বিষয়সমূহ আলোচনা করিবেন। (৩) স্পীকার কর্তৃক যথাযথ বলিয়া বিবেচিত আকারে অনুরূপ ধন্যবাদ-প্রস্তাবের সংশোধনী উত্থাপন করা যাইবে।
ধারা: ৩৫। আলোচনার জন্য গ্রহণযোগ্য অন্য কাজ - (১) রাষ্ট্রপতির ভাষণ আলোচনার জন্য দিন বরাদ্দ হওয়া সত্ত্বেও- (ক) অনুরূপ দিনে বিল উত্থাপনের জন্য অনুমতি-প্রস্তাব উত্থাপন করা যাইবে এবং বিল উত্থাপন করা যাইবে; এবং (খ) সংসদ কর্তৃক উক্ত ভাষণ সম্পর্কে আলোচনা আরম্ভ করার বা অব্যাহত রাখার পূর্বে অনুরূপ দিনে আনুষ্ঠানিক ধরনের অন্যান্য কাজ সম্পাদন করা যাইবে। (২) কোন সরকারী বিল বা অন্য কোন সরকারী কাজের জন্য উক্ত ভাষণের আলোচনা, স্পীকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন দিন পর্যন্ত মুলতবি করা হউক এই মর্মে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করিয়া ভাষণের আলোচনা স্থগিত রাখা যাইবে। স্পীকার কোন সংশোধনী বা বিতর্কের অবকাশ না দিয়া তৎক্ষণাৎ প্রশ্নটিকে ভোটে দিবেন। (৩) কোন বৈঠকে ৬৬ বিধির অধীন উক্ত ভাষণের আলোচনায় বাধা প্রদান করা যাইবে।
সংসদ অধিবেশন ঘিরে যেসব এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করল ডিএমপি
আজ ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরোয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ মার্চ বুধবার রাত ১২টা থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে এবং জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।
ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় বস্তু বহন করা যাবে না। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি সড়ক ও এলাকায় এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে রয়েছেÑময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামটর ক্রসিং পর্যন্ত এলাকা, বাংলামটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও সড়কের সার্ক ফোয়ারা পর্যন্ত, পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রিন রোড সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত এবং মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল পর্যন্ত।
এছাড়া রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন (উড়োজাহাজ) ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণির পর্যটন ক্রসিং, ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্ত এবং জাতীয় সংসদ ভবন-এর সংরক্ষিত এলাকা ও সীমানার ভেতরের সব রাস্তা ও গলিতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের জনস্বার্থে জারি করা এ নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।