# অনিয়ম শক্তভাবে মোকাবেলা করার ঘোষণা সিইসির

# সরকার ও ইসির অগ্নি পরীক্ষা

# প্রথমবার একইদিনে জাতীয় ও গণভোট

# সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ

প্রথম বারের মতো বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচন হতে যাচ্ছে আজ। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর দেশের মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট প্রদান করতে যাচ্ছে। তবে উৎসবের পাশাপাশি আতঙ্কও বিরাজ করছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ করে সঠিক ফলাফল ঘোষনা করা ইসির জন্য আজ এক মহা চ্যালেঞ্জ। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে এসে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের আহবান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছেঁছে। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।

আজ ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। এটি পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। নির্বাচনে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণ হবে, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোট পরিচালনায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্বে রয়েছেন। প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। ২৯৯ আসনের ভোটে মোট ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন, এর মধ্যে এক হাজার ৬৯২ জন দলীয় এবং ২৫৩ জন স্বতন্ত্র।

ইসি জানায়, ৫ আগষ্টের আন্দোলনের পর সংবিধান সংস্কারের জন্য গোলাপী ব্যালটে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। এবার ৩৫ বছরের নিচে ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন। এ বয়সসীমার ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ১৭ লাখ ৫১ হাজার ৯০২ জন, নারী ৯৪ লাখ ৯০ হাজার ২২১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ৪০৮ জন। অন্যদিকে ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছে এক কোটি ৭৮ লাখ ১ হাজার ৩০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার এক কোটি ৪১ লাখ ১ হাজার ৯০, নারী ভোটার ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৫৬৭ জন।

ভোটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‌্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দিয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া নির্বাচনি অপরাধের বিচারকাজে নিয়োজিত আছেন ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম, এক হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম এবং নির্বাচনি তদন্ত কমিটিতে ৩০০ বিচারিক হাকিম। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচনি অপরাধের ৪৬৮টি আচরণ বিধি ভঙ্গের মামলায় ২৫৯টি মামলায় প্রার্থী ও সমর্থকদের ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নির্বাচনি তদন্ত কমিটি সংক্ষিপ্ত বিচারে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।

ভোটে ইসির নিমন্ত্রণে বিদেশি পর্যবেক্ষক ৫৭ জন, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন এবং বিদেশি সাংবাদিক ১৫৬ জন এরই মধ্যে দেশে এসেছে। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছে ৮০ সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন।

প্রথমবারের মতো এবার নির্বাচনে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসি জানিয়েছে, ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ২০ দিনের প্রচারণা শেষে এখন প্রার্থীরা ব্যস্ত জয়-পরাজয়ের হিসাব কষতে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হচ্ছে, যার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে সংবিধান সংশোধনের একগুচ্ছ প্রস্তাব। দলীয় সরকারের অধীনে টানা তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর এবারের ভোট নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কারাবন্দী ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে অনিয়মের কারণে প্রিজাইডিং অফিসার যে কোন সময় ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখতে পারবেন। বড় ধরনের সহিংসতা হলে ফলাফল স্থগিত ও বাতিলও করতে পারবে ইসি।

মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচন একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বৈষম্য ও বঞ্চনার সাংবিধানিক প্রকাশ ঘটবে ব্যালটের মাধ্যমে। তিনি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক ভোটের আশা প্রকাশ করেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অস্ত্র, পেশিশক্তির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রচারণার সময় সহিংসতার ঘটনা ঘটায় ভোটের দিনও আতঙ্ক রয়েছে কোন কোন এলাকায়। নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা মনিটরিং সেলের সঙ্গে বৈঠক শেষে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার চর্চা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

কোন দলের কত প্রার্থী

এবারের ভোটে সর্বোচ্চ সংখ্যক দল ও প্রার্থী ভোটে অংশ নিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ২৮৮ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) লাঙলে ১৯২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য দলগুলোর মধ্যেÑ গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে ৬৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মই প্রতীকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে ৩৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২ জন, খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ২১ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগল প্রতীকে ৩০ জন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্য প্রতীকে ১৯ জন, গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীকে ১৭ জন, এলডিপির ছাতা প্রতীকে ১২ জন এবং নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীকে ১১ জন প্রার্থী আছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাল ১০ লাখ পোস্টাল ভোট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ১০ লাখ পোস্টাল ভোট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এসে পৌঁছেছে। গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসি জানায়, প্রবাসীদের জন্য ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে ভোট দিয়ে দেশে পাঠানো হয়েছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৬১৫ জন। আর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৪৩ জন।

অন্যদিকে দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৮ পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫৩ জনের।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের দিন বিকেলে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত হাতে আসা ব্যালট পেপার গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

নির্বাচনে যেকোনো অনিয়ম শক্তভাবে তদারকি করা হবে: সিইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। নির্বাচন কমিশন ভোট গণনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনিয়ম বিতর্ক ও অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে। যেকোনো ধরনের অনিয়ম শক্তভাবে তদারিক করা হবে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনাল হোটেলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন নাসির উদ্দিন। এ সময় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ৩৫০ সদস্য নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন এবং ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর। আসন্ন নির্বাচনে ২৯৯টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করছে।’

নাসির উদ্দিন বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৭ লাখ নারী। এতে মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৭ মিলিয়নের বেশি। তালিকার তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

নাসির উদ্দিন আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো নির্বাচনী বিরোধ সংবিধান ও আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে। একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে কমিশন অঙ্গীকারবদ্ধ। গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের পেশাদার ভূমিকা এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক আস্থা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যেভাবে গণভোট দেবেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ ২০২৫ অনুমোদনের জন্য জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ভোট দেবেন নিম্নের প্রক্রিয়ায়- ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলে আপনাকে দুটি ব্যালট দেওয়া হবে। একটি সাদা অন্যটি গোলাপি। সাদা ব্যালট এমপি প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য, আর গোলাপি ব্যালট গণভোটের জন্য। দুটি ব্যালটে আলাদা সিল মেরে একই বাক্সে রাখতে হবে। এমপি প্রার্থীদের ভোট দেবেন তার প্রতীক বা মার্কায় সিল মেরে। আর গণভোটের ব্যালটে সিল দেবেন ‘হ্যাঁ’ অথাব ‘না’র ওপর। অথবা ব্যালটের হ্যাঁ চিহ্নিত স্থানে ব্যালটে (√) অথবা না চিহ্নিত স্থানে (√) চিহ্ন দিতে হবে।

কী থাকবে ব্যালট পেপারে?

ব্যালট পেপারে নিম্নে উল্লেখিত বিবরণের পর ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ঘর থাকবে। সেখানে হ্যাঁ ঘরের পাশে টিক চিহ্ন এবং না এর ঘরের পাশে ক্রস চিহ্ন থাকবে। যে কোনো একটিতে সিল দিতে হবে- ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে নিম্নলিখিত সাংবিধানিক সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?’ (হ্যাঁ/না)

ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হইবে।

খ. আগামী জাতীয় সংসদ হইবে দুই কক্ষবিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হইবে এবং সংবিধান সংশোধন করিতে হইলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হইবে।

গ. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধীদল হইতে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হইয়াছে- সেগুলো বাস্তবায়ন জাতীয় সংসদ নিশ্চিত করিতে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকিবে।

ঘ. জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত অপরাপর সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হইবে।

নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল শুক্রবার: ইসি সানাউল্লাহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে গণভোট এবং নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং সাংবাদিকদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়েল। প্রত্যেকটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকেল ৪টার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে শুধুমাত্র সেগুলোই গণনা করা হবে।

গণঅভ্যুত্থানের পর থানা থেকে লুট হওয়া ৯ শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্র ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে ভোটকেন্দ্রগুলো।

সানাউল্লাহ আরও বলেন, দ্বৈত নাগরিকরা ভোট দিতে পারবেন। এটা নিয়ে কোনো সাংবিধানিক বাঁধা নেই। তবে, দ্বৈত নাগরিকত্ব রেখে প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রার্থীকে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে।