জাতীয় সংসদে আজ ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ এবং ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে জারি করা দুটি প্রধান অধ্যাদেশ বাতিল ঘোষণা করা হলো।

এই বিল পাশের উদ্যোগকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক-আউট করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা।

পাস হওয়া নতুন আইনের ফলে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়’ বিলুপ্ত হবে। এই সচিবালয়ের অধীনে থাকা সব বাজেট ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে চলে যাবে।

নিয়োগ কাউন্সিল বাতিল: উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের জন্য গঠিত ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ বাতিল করা হয়েছে।

সরকারের যুক্তি: আইনমন্ত্রী সংসদে জানান, পৃথক সচিবালয়ের কাঠামো নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের অধীনে ইতিপূর্বে নেওয়া সব নিয়োগ ও কার্যক্রম বৈধ হিসেবে গণ্য হবে।

সংসদে বিলটি উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, এই পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং পুরনো নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, "এই অধ্যাদেশগুলো বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছিল এবং নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ কমিয়েছিল। এগুলো বাতিল করার ফলে বিচার বিভাগের স্বকীয়তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।"

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং কোনো 'রাজনৈতিক বিচারক' তৈরি হোক তা তারা চান না। তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক সংস্কার কমিটির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের জন্য আরও শক্তিশালী ও স্থায়ী আইনি কাঠামো তৈরি করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া বিল দুটি এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এটি আইন হিসেবে কার্যকর হবে। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।