বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে দেশবাসি বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। জুলাই-আগস্ট ছাত্র গণঅভ্যুথানে দুই হাজার প্রাণ ও ২০ হাজার ছাত্র-জনতার পঙ্গুত্ব বরণের বিনিময়ে দেশে নতুন স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এ স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিভিন্ন অর্গানের সংস্কার প্রয়োজন। নির্বাচনের আগেই আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের জুলুম নির্যাতন ও মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শেষ করতে হবে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া যারা দ্রুত নির্বাচনে ব্যস্ত, তারা মুলতঃ ফ্যাসিবাদকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়।
শনিবার বিকেলে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা জামিরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
ইউনিয়ন আমীর মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও প্রিন্সিপাল গাওসুল আজম হাদী, জেলা প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক শেখ সিরাজুল ইসলাম, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা আল মুজাহিদ।
ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্যা, নায়েবে আমীর মাওলানা শেখ ওবায়দুল্লাহ, সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল হাসান খান, কর্মপরিষদ সদস্য শেখ আলাউদ্দিন, ড. মাওলানা আজিজুল হক, ফুলতলা ইউনিয়ন আমীর মাস্টার মফিজুল ইসলাম, দামোদর ইউনিয়ন আমীর ইঞ্জি. শাব্বির হোসেন, হাফেজ গাজী আল আমিন, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন সমাজ সংস্কার ও জনহিতকর কাজের বর্ণনা দিয়ে সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জনগণ যদি আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দ্বায়িত্ব দেয় তাহলে আমরা শাসক হতে চাই না, সেবক হতে চাই। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। ইনসাফ ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশ চালাতে চাই। আমাদের আমীরে জামায়াত মানবিক নেতা ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে বিভিন্ন সভা সমাবেশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
সিয়াম সাধনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তাকওয়ার জন্য আসা রমযানের রোযা রাখার মধ্য দিয়ে আমাদেরকে আরো বেশি আত্নসংযমী হতে হবে। গুনাহ মাফের এই মাসে আমাদের বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ও সর্বদা তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দিনের বেলায় সিয়াম পালন ও রাতে কিয়ামের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে হবে। মিথ্যাকে পরিহার করে সর্বদা সত্যকে ধারণ করতে হবে।