স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানিয়েছে নিয়মিত ও টিকাদান ক্যাম্পেইনে এতদিন ৯ মাস বয়স হলেই হামের টিকা নিতে পারত শিশুরা। এবার সংক্রমণের ধরন বিবেচনায় নিয়মিত কর্মসূচিতে না হলেও ক্যাম্পেইনে ৬ মাস বয়সী শিশুরা হামের টিকা নিতে পারবে ।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে জাতীয় টিকাদান-সংক্রান্ত কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপের (নাইট্যাগ) পরামর্শ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ।

গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্যাম্পেইনে নির্ধারিত বয়সের কম বয়সেও টিকা দেওয়া হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ ব্যাপারে নির্দেশনা রয়েছে। ফলে ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ১০ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছে নাইট্যাগ। তবে নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই ৯ মাসের আগে হামের টিকা দেওয়া যাবে না।

হালিমুর রশিদ বলেন, বিশ্বের কোথাও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ৯ মাসের আগে হামের টিকা দেওয়ার ইতিহাস নেই। তাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও সুপারিশ নেই। দেওয়া যাবে কিনা সেটি গবেষণার বিষয়। যতক্ষণ না হচ্ছে ৯ মাসেই নিতে হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনক হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মাসে এ রোগে ৮০ আক্রান্ত ও অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছে অধিদপ্তর।

সবচেয়ে আশঙ্কার খবর— চলতি মাসে হামে মারা যাওয়া ১৪ শিশুর মধ্যে ৩৫ শতাংশের বয়স ৯ মাসেরও কম। অথচ দেশের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী, অত্যন্ত ছোঁয়াচে এ রোগ থেকে রক্ষার জন্য শিশুর ৯ মাস বয়সে তাকে প্রথম টিকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। হামের টিকা দেওয়ার বয়সসীমা জরুরিভিত্তিতে কমানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তারই প্রেক্ষিতে আজ বৈঠকে বসে নাইট্যাগ।

এদিকে, ইপিআই সূত্রে জানা গেছে, গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স থেকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের জন্য বরাদ্দকৃত টিকা সরকারের হাতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু সিরিঞ্জসহ অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট না আসায় পিছিয়ে যাচ্ছে ক্যাম্পেইন।